ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরান সীমান্ত পর্যন্ত উড়ে ফিরে এল ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান: অ্যাক্সিওস

ইরান সীমান্ত পর্যন্ত উড়ে ফিরে এল ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান: অ্যাক্সিওস
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পাড়ি দিয়ে সরাসরি ইরানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত উড়ে গিয়ে ফিরে এসেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ডজনখানেক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। গত সোমবার পরিচালিত অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দূরপাল্লার অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং ট্যাংকার বিমানও অংশ নেয়। ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে পরিচালিত এ সামরিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে নিজেদের বিমান শক্তির সক্ষমতা জানান দেওয়া। ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দিনই এ ঘটনা ঘটে; যদিও কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হেগসেথের সফরের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সংযোগ ছিল না। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাক হয়ে ঠিক সেই আকাশপথ ধরেই অগ্রসর হয়েছিল, যা সাধারণত ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে ব্যবহৃত হওয়ার কথা। তবে ইরানের সীমান্তরেখার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর কোনো ধরনের আক্রমণ না চালিয়ে বিমানগুলো দিক পরিবর্তন করে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যায়।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা একে ‘নিয়মিত সামরিক মহড়া’ এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানকে নিবৃত্ত রাখার সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করলেও আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মহড়া থেকে মারাত্মক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধ বেধে যেতে পারত। বিশেষ করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যদি যুদ্ধবিমানগুলোকে আসন্ন বড় হামলার প্রস্তুতি মনে করে পাল্টা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করত, তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত।

এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে অভিযানের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল খুব ভালো করেই জানত তাদের এই গতিবিধি ইরানের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় স্পষ্ট ধরা পড়বে। ফলে এমন ধারণাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে, ইসরায়েল হয়তো চেয়েছিল ইরান যেন ওই বিমানগুলো লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে; যাতে করে আত্মরক্ষার অজুহাতে নির্বাচনের আগেই ইরানের পরমাণু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সরাসরি সর্বাত্মক পাল্টা সামরিক হামলা চালানোর আন্তর্জাতিক বৈধতা তৈরি করা যায়।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

ট্যাগ : যুদ্ধবিমান অ্যাক্সিওস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


ইরান সীমান্ত পর্যন্ত উড়ে ফিরে এল ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান: অ্যাক্সিওস

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পাড়ি দিয়ে সরাসরি ইরানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত উড়ে গিয়ে ফিরে এসেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ডজনখানেক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। গত সোমবার পরিচালিত অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দূরপাল্লার অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং ট্যাংকার বিমানও অংশ নেয়। ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে পরিচালিত এ সামরিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে নিজেদের বিমান শক্তির সক্ষমতা জানান দেওয়া। ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দিনই এ ঘটনা ঘটে; যদিও কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হেগসেথের সফরের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সংযোগ ছিল না। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাক হয়ে ঠিক সেই আকাশপথ ধরেই অগ্রসর হয়েছিল, যা সাধারণত ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে ব্যবহৃত হওয়ার কথা। তবে ইরানের সীমান্তরেখার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর কোনো ধরনের আক্রমণ না চালিয়ে বিমানগুলো দিক পরিবর্তন করে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যায়।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা একে ‘নিয়মিত সামরিক মহড়া’ এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানকে নিবৃত্ত রাখার সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করলেও আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মহড়া থেকে মারাত্মক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধ বেধে যেতে পারত। বিশেষ করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যদি যুদ্ধবিমানগুলোকে আসন্ন বড় হামলার প্রস্তুতি মনে করে পাল্টা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করত, তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত।

এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে অভিযানের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল খুব ভালো করেই জানত তাদের এই গতিবিধি ইরানের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় স্পষ্ট ধরা পড়বে। ফলে এমন ধারণাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে, ইসরায়েল হয়তো চেয়েছিল ইরান যেন ওই বিমানগুলো লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে; যাতে করে আত্মরক্ষার অজুহাতে নির্বাচনের আগেই ইরানের পরমাণু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সরাসরি সর্বাত্মক পাল্টা সামরিক হামলা চালানোর আন্তর্জাতিক বৈধতা তৈরি করা যায়।

সূত্র: অ্যাক্সিওস


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ