মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশকে শুরুতে ‘শাস্তি’ মনে হলেও পরে বুঝতে পেরেছেন এর মাধ্যমে এক মারাত্মক রাজনৈতিক চক্রান্ত ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের ফাঁদ থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন এবং তিনি কোনো প্রশ্ন না তুলে একবাক্যেই তা মেনে নিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৩ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি পদত্যাগের এই নেপথ্য প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
ইশরাক হোসেন লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন, যা আমি একবাক্যে মেনে নিয়েছিলাম। প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল, কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের শুভাকাঙ্ক্ষী জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কৃত্রিম দূরত্ব তৈরি করে তাঁকে পুরোপুরি একঘরে করে ফেলার এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার একটি অশুভ নীলনকশা করা হয়েছিল। অতীতে খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও একটি চক্র একই ধরনের চক্রান্ত করেছিল বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সতর্ক করে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দৃঢ় আস্থা ও আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে এই তরুণ সংসদ সদস্য লেখেন, “আমি তাঁর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী। আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্য কোনটি ভালো, সেটি বিবেচনায় রাখেন। আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে তৈরি হওয়া চক্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছি।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজ দলের ভেতরে থাকা সুবিধাবাদী ও বিরোধীদের সঙ্গে আঁতাতকারীদের সতর্ক করে দিয়ে ইশরাক হোসেন জানান, দলের কেউ যদি আঁতাতকারী প্রমাণিত হয়, তবে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে ও যথাযথ অনুমতি নিয়েই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রকাশ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্যসমূহ