ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সুদানে ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিহত ১৬০ জনের বেশি

সুদানে ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিহত ১৬০ জনের বেশি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদানে কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানী খার্তুম ও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় চালানো প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬০ জনের বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নিরপরাধ শিশুও রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মী, হাসপাতাল সূত্র এবং দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠনগুলোর বরাতে এ ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী খার্তুমে পরিচালিত একটি ড্রোন হামলায় তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, গত শুক্রবার থেকে সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ড্রোন হামলায় একের পর এক বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যাতে নিহতের মোট সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানি সামরিক বাহিনী (এসএএফ) এবং দেশটির প্রধান আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন ও দূরপাল্লার প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের হতাহতের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। এসব হামলার জন্য উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করছে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ঘটে রোববার সন্ধ্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে। আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এই শহরের একটি ব্যস্ততম সাপ্তাহিক বাজারের কাছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য পরিবহণকেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন। এমন সময় সরাসরি সেই গণজমায়েতে ড্রোন হামলা চালানো হলে ঘটনাস্থলেই ৮০ জন নিহত হন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর আহত ৪৭ জনকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী আল-মুজলাদ শহরের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় স্বঘোষিত আরএসএফ প্রশাসন এবং ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এই বর্বরোচিত হামলার জন্য সরাসরি সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।

একই সঙ্গে সুদানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলার চেষ্টা চলছে। পূর্বাঞ্চলীয় গেদারেফ রাজ্যের কৌশলগত আতবারা ও সেটিট বাঁধ লক্ষ্য করে আরএসএফ একাধিক আত্মঘাতী ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায় বলে দাবি করেছেন সুদানের সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে রাজধানীর প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত বাঁধ দুটি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোনগুলো নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথেই প্রতিহত করা হয় বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সুদানে সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো এমন নির্বিচার ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশজুড়ে চলমান প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় একের পর এক সাধারণ মানুষ ও শিশুদের প্রাণ যাচ্ছে এবং অপরিহার্য জরুরি সেবাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

সূত্র: আল জাজিরা 

ট্যাগ : সুদান গৃহযুদ্ধ সুদান ড্রোন হামলা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


সুদানে ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিহত ১৬০ জনের বেশি

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদানে কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানী খার্তুম ও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় চালানো প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬০ জনের বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নিরপরাধ শিশুও রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মী, হাসপাতাল সূত্র এবং দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠনগুলোর বরাতে এ ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী খার্তুমে পরিচালিত একটি ড্রোন হামলায় তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, গত শুক্রবার থেকে সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ড্রোন হামলায় একের পর এক বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যাতে নিহতের মোট সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানি সামরিক বাহিনী (এসএএফ) এবং দেশটির প্রধান আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন ও দূরপাল্লার প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের হতাহতের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। এসব হামলার জন্য উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করছে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ঘটে রোববার সন্ধ্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে। আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এই শহরের একটি ব্যস্ততম সাপ্তাহিক বাজারের কাছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য পরিবহণকেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন। এমন সময় সরাসরি সেই গণজমায়েতে ড্রোন হামলা চালানো হলে ঘটনাস্থলেই ৮০ জন নিহত হন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর আহত ৪৭ জনকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী আল-মুজলাদ শহরের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় স্বঘোষিত আরএসএফ প্রশাসন এবং ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এই বর্বরোচিত হামলার জন্য সরাসরি সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।

একই সঙ্গে সুদানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলার চেষ্টা চলছে। পূর্বাঞ্চলীয় গেদারেফ রাজ্যের কৌশলগত আতবারা ও সেটিট বাঁধ লক্ষ্য করে আরএসএফ একাধিক আত্মঘাতী ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায় বলে দাবি করেছেন সুদানের সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে রাজধানীর প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত বাঁধ দুটি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোনগুলো নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথেই প্রতিহত করা হয় বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সুদানে সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো এমন নির্বিচার ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশজুড়ে চলমান প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় একের পর এক সাধারণ মানুষ ও শিশুদের প্রাণ যাচ্ছে এবং অপরিহার্য জরুরি সেবাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

সূত্র: আল জাজিরা 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ