ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সৌদির প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তার অনুমোদন নিতে যাচ্ছে মিশর

সৌদির প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তার অনুমোদন নিতে যাচ্ছে মিশর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবকে রক্ষা করতে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের অনুমতি নিতে যাচ্ছে মিশর। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে মিশরের পার্লামেন্টে এক ঐতিহাসিক ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সৌদি সরকারের অনুরোধ সাপেক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষায় মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অংশগ্রহণের বৈধতা দেওয়া হবে কি না, তা এই ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের জেরে ছড়িয়ে পড়া বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্থিরতায় আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও শক্তিশালী সামরিক শক্তির সরাসরি জড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি পার্লামেন্টের অনুমোদন চাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে ঐতিহাসিক সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সংকটের দিনে পাশে দাঁড়ানো উপসাগরীয় অঞ্চলের ভাইদের অবদান মিশর কখনো ভুলবে না।” সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কায়রো সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে মিশর কূটনৈতিকভাবে মিত্রদের পাশে থাকলেও এতদিন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অনীহা দেখিয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হুতিদের হামলা উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় কায়রো তার নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন আনছে। গত মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কায়রো সফরের সময় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর আলোচনা হয়। মূলত অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে সিসি প্রশাসন। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আসা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স এবং সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক অনুদান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমানতের ওপর মিশরের ভঙ্গুর অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। পাশাপাশি, সুয়েজ খাল থেকে রাজস্ব আয় ধরে রাখা এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা রক্ষার সঙ্গেও মিশরের জাতীয় স্বার্থ জড়িত।

আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক মিশরীয় সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্যসংখ্যা কয়েক লাখ। তাদের বহরে রয়েছে মার্কিন এফ-১৬, ফরাসি রাফাল এবং রুশ মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের মতো শক্তিশালী সমরাস্ত্র। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইয়েমেনের পাহাড়ি ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো বড় স্থলসেনা না পাঠিয়ে মিশর মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ড্রোন নজরদারি এবং লোহিত সাগরের সৌদি উপকূলভাগে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে জল ও আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে রিয়াদকে কারিগরি ও সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স 

ট্যাগ : মিশর সৌদি সামরিক সহায়তা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


সৌদির প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তার অনুমোদন নিতে যাচ্ছে মিশর

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবকে রক্ষা করতে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের অনুমতি নিতে যাচ্ছে মিশর। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে মিশরের পার্লামেন্টে এক ঐতিহাসিক ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সৌদি সরকারের অনুরোধ সাপেক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষায় মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অংশগ্রহণের বৈধতা দেওয়া হবে কি না, তা এই ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের জেরে ছড়িয়ে পড়া বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্থিরতায় আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও শক্তিশালী সামরিক শক্তির সরাসরি জড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি পার্লামেন্টের অনুমোদন চাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে ঐতিহাসিক সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সংকটের দিনে পাশে দাঁড়ানো উপসাগরীয় অঞ্চলের ভাইদের অবদান মিশর কখনো ভুলবে না।” সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কায়রো সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে মিশর কূটনৈতিকভাবে মিত্রদের পাশে থাকলেও এতদিন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অনীহা দেখিয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হুতিদের হামলা উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় কায়রো তার নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন আনছে। গত মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কায়রো সফরের সময় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর আলোচনা হয়। মূলত অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে সিসি প্রশাসন। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আসা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স এবং সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক অনুদান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমানতের ওপর মিশরের ভঙ্গুর অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। পাশাপাশি, সুয়েজ খাল থেকে রাজস্ব আয় ধরে রাখা এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা রক্ষার সঙ্গেও মিশরের জাতীয় স্বার্থ জড়িত।

আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক মিশরীয় সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্যসংখ্যা কয়েক লাখ। তাদের বহরে রয়েছে মার্কিন এফ-১৬, ফরাসি রাফাল এবং রুশ মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের মতো শক্তিশালী সমরাস্ত্র। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইয়েমেনের পাহাড়ি ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো বড় স্থলসেনা না পাঠিয়ে মিশর মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ড্রোন নজরদারি এবং লোহিত সাগরের সৌদি উপকূলভাগে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে জল ও আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে রিয়াদকে কারিগরি ও সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ