ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রচারিত ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যারাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রিয়াদের নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামাবাদের অঙ্গীকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তবে সহায়তার প্রকৃতি কিংবা পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক জোটগুলো সাধারণত নিজেদের প্রতিরক্ষা সহায়তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে জানায় না।

হুতিদের হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে বলে জানান আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

তিনি বলেন, সৌদি আরব কিংবা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা অথবা হামলার হুমকির কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাকিস্তান ও রিয়াদের মধ্যে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং অন্যটি তুরস্ককে নিয়ে গঠিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট।

এই জোটের সামরিক ভূমিকা সম্পর্কে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্দেশ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করা নয়।

তাঁর দাবি, তিন দেশের এই জোট সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাই এর লক্ষ্য।

হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তানের সহায়তা শুধু আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তোলেন।

আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, জোটের তিন সদস্য দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ শুরু হলে সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

তাঁর মতে, এই অবস্থান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।

তিনি বলেন, ‘যদি এই প্রতিরোধব্যবস্থা কাজ না করে, তাহলে তিনটি দেশের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করে তা পুনরায় কার্যকর করতে হবে।’

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ নিয়েও সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে হুতিদের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের প্রসঙ্গ ওঠার পর ইসলামাবাদ ইরানকে কোনো সতর্কবার্তা দিয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জানান, ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব যোগাযোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো।

তিনি বলেন, সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং সংঘাতের বিস্তার আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমাধান সম্ভব না হলে এবং পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে এগোলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে জানান তিনি।

প্রতিরক্ষা জোটের সম্প্রসারণ নিয়েও কথা বলেন আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

তিনি জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠেছে।

আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে একমত এবং জোটে যোগ দিতে আগ্রহী অন্য দেশগুলোর জন্যও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

মিসর ও সিরিয়ার মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তিন দেশের রাজনৈতিক, কৌশলগত ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক জোটের অধীনে একটি জরুরি বৈঠকে অংশ নেয়।

হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে তিন দেশ একমত হয়।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্দেশ্য তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জোটের যেকোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামাবাদের অঙ্গীকারকে নিঃশর্ত বলে উল্লেখ করেছিলেন।

তবে সে সময়ও তিনি স্পষ্ট করেন, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার লক্ষ্য আক্রমণাত্মক সামরিক তৎপরতা নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সূত্র: ডন

ট্যাগ : সৌদি আরব পাকিস্তান হুতি বিদ্রোহী মক্কা প্রতিরক্ষা জোট

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রচারিত ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যারাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রিয়াদের নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামাবাদের অঙ্গীকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তবে সহায়তার প্রকৃতি কিংবা পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক জোটগুলো সাধারণত নিজেদের প্রতিরক্ষা সহায়তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে জানায় না।

হুতিদের হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে বলে জানান আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

তিনি বলেন, সৌদি আরব কিংবা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা অথবা হামলার হুমকির কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাকিস্তান ও রিয়াদের মধ্যে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং অন্যটি তুরস্ককে নিয়ে গঠিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট।

এই জোটের সামরিক ভূমিকা সম্পর্কে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্দেশ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করা নয়।

তাঁর দাবি, তিন দেশের এই জোট সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাই এর লক্ষ্য।

হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তানের সহায়তা শুধু আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তোলেন।

আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, জোটের তিন সদস্য দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ শুরু হলে সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

তাঁর মতে, এই অবস্থান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।

তিনি বলেন, ‘যদি এই প্রতিরোধব্যবস্থা কাজ না করে, তাহলে তিনটি দেশের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করে তা পুনরায় কার্যকর করতে হবে।’

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ নিয়েও সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে হুতিদের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের প্রসঙ্গ ওঠার পর ইসলামাবাদ ইরানকে কোনো সতর্কবার্তা দিয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জানান, ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব যোগাযোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো।

তিনি বলেন, সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং সংঘাতের বিস্তার আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমাধান সম্ভব না হলে এবং পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে এগোলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে জানান তিনি।

প্রতিরক্ষা জোটের সম্প্রসারণ নিয়েও কথা বলেন আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

তিনি জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠেছে।

আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে একমত এবং জোটে যোগ দিতে আগ্রহী অন্য দেশগুলোর জন্যও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

মিসর ও সিরিয়ার মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তিন দেশের রাজনৈতিক, কৌশলগত ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক জোটের অধীনে একটি জরুরি বৈঠকে অংশ নেয়।

হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে তিন দেশ একমত হয়।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্দেশ্য তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জোটের যেকোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামাবাদের অঙ্গীকারকে নিঃশর্ত বলে উল্লেখ করেছিলেন।

তবে সে সময়ও তিনি স্পষ্ট করেন, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার লক্ষ্য আক্রমণাত্মক সামরিক তৎপরতা নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সূত্র: ডন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ