কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমে যাওয়ায় দীর্ঘ এক মাস দুই দিন পর আবারও পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে রাঙ্গামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। সংস্কারকাজ শেষে পর্যটকদের চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেতুটিতে আবারও পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যেও ফিরে এসেছে স্বস্তি।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা সেতু খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায় ঝুলন্ত সেতুটি। ওই দিনই পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেতুতে প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এরপর ১২ অক্টোবর থেকে হ্রদের পানি কমতে শুরু করলে সেতুটি আবার দৃশ্যমান হয়। প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে পর্যটকদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয় স্থাপনাটি।
প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির এই জনপ্রিয় পর্যটন স্থাপনা পানির নিচে চলে যায়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখতে হয়।
গত বছরও টানা ৮৫ দিন পানিতে ডুবে ছিল সেতুটি। এতে পর্যটকদের চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পর ১৯৮৬ সালে নির্মাণ করা হয় ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতু। দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাটি রাঙ্গামাটির পর্যটনের অন্যতম পরিচিত প্রতীক।
সেতুটি দেখতে স্থলপথের পাশাপাশি জলপথেও যাতায়াত করা যায়।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি পর্যটক এই সেতু পরিদর্শন করেন। জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৩০ টাকা। সেতু থেকে বার্ষিক আয় প্রায় এক কোটি টাকার বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পর্যটন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। সেতু বন্ধ থাকলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এ কারণে বারবার সাময়িকভাবে সেতু বন্ধ ও চালু করার পরিবর্তে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিবেচনায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বর্ষা মৌসুমেও পর্যটন কার্যক্রম সচল রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মন্তব্যসমূহ