ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সরাসরি জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
তার বক্তব্য, নির্বাচনে বারবার ব্যর্থতার দায় ভোটার তালিকা বা নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর না চাপিয়ে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ করা।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অমিত শাহ বলেন, এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে কংগ্রেসকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনভিত্তি নিয়ে ভাবতে হবে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোটের আন্দোলনও চলছে।
অমিত শাহ এসব অভিযোগের জবাবে প্রশ্ন তোলেন, এসআইআর যদি বিজেপির নির্বাচনি সাফল্যের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে বিভিন্ন নির্বাচনে বিজেপির ধারাবাহিক জয়কে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?
তার ভাষায়, কংগ্রেসের উচিত নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজতে নিজেদের দিকে তাকানো।
এ সময় তিনি ইভিএম নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগেরও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ত্রিপুরার স্থানীয় নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ব্যালট পেপারে ভোট হলেও বিজেপি জয় পেয়েছে। তার দাবি, বিজেপির নির্বাচনি সাফল্য কোনো একটি ভোটগ্রহণ পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
অমিত শাহ আরও দাবি করেন, শুধু গুজরাট বা দিল্লি নয়, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও তামিলনাড়ুতেও বিভিন্ন নির্বাচন বা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের দুর্বল অবস্থান দেখা গেছে।
তবে এসব বক্তব্যের মধ্যেই রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। কারণ কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে সরকার ও ক্ষমতাসীন শিবির বলছে, ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধন নির্বাচনি ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল করার অংশ।
অমিত শাহ কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত করেন। তার দাবি, ভারতের গ্রাম, কৃষক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কংগ্রেসের যোগাযোগ কমে গেছে। ফলে শুধু নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে দলটির রাজনৈতিক দুর্বলতার মূল কারণ আড়ালে থেকে যাবে।
এরপর ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়েও বড় দাবি করেন অমিত শাহ। তার ভবিষ্যদ্বাণী, আগামী নির্বাচনেও কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়বে।
অর্থাৎ, এসআইআর নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন শুধু ভোটার তালিকার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং আগামী লোকসভা নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বার্তা।
মন্তব্যসমূহ