ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রতিরক্ষায় বিপুল ব্যয়, তবুও কেন হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি?

প্রতিরক্ষায় বিপুল ব্যয়, তবুও কেন হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি?
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

অস্ত্রের অভাব নেই। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান আছে। প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আছে। প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ব্যয় হচ্ছে ৮৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবু ইয়েমেনের হুথিদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। 

গত এক সপ্তাহের ঘটনাই যেন সেই প্রশ্ন আরও তীব্র করে তুলেছে। সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর হামলা হয়েছে। ১০ অক্টোবরের হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন একই বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে আবার হামলা হলে আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। 

এরপর বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হয়। সৌদি আকাশসীমার একটি বড় অংশেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অর্থাৎ হামলার লক্ষ্য শুধু ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো নয়, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি করাও। 

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার পরও এমন হামলা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?

এর একটি বড় কারণ সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ড ও ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। রাজধানী রিয়াদ থেকে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, বন্দর ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক স্থাপনা রক্ষা করতে হয়। সব জায়গায় একই মাত্রার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা সম্ভব নয়।

আর হুথিরা ঠিক এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করছে। একদিকে কিছু অস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে একাধিক দিক থেকে আসা হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা হুথিদের অন্যতম কৌশল। 

হুথিরা অবশ্য এই সক্ষমতা রাতারাতি অর্জন করেনি।

বছরের পর বছর ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধ করতে করতে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারে দক্ষতা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা হুথিদের হাতে ইরানি প্রযুক্তি ও অস্ত্রের বিভিন্ন নিদর্শন শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে অস্ত্র ও প্রযুক্তি উৎপাদনের সক্ষমতাও তাদের বেড়েছে। 

জনবলও এখন আর আগের অবস্থায় নেই। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, ২০২৪ সাল নাগাদ হুথিদের নিয়োগ করা যোদ্ধার সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এই সংখ্যাকে সক্রিয় যোদ্ধার নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হুথিদের মোকাবিলায় শুধু আকাশ প্রতিরক্ষা দিয়ে সমস্যার পুরো সমাধান করা কঠিন। কারণ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ধ্বংস করার পাশাপাশি কোথা থেকে সেগুলো উৎক্ষেপণ হচ্ছে, কোথায় অস্ত্রের মজুত রয়েছে এবং কীভাবে উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংস করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এখানেই সৌদি আরবের সামনে বড় সামরিক ও রাজনৈতিক সমস্যা।

ইয়েমেনের পাহাড়ি ভূখণ্ডে হুথিদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন। তাদের মোবাইল লঞ্চার দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়। আর সরাসরি স্থল অভিযান চালিয়ে হুথিদের পরাস্ত করার ঝুঁকিও অনেক বেশি। দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থাকা এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও এখন পর্যন্ত দ্রুত কোনো निर्णায়ক সাফল্য দেখাতে পারেনি। 

এর মধ্যে সংঘাতের নতুন একটি দিক তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোও হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

১৩ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দহরানে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয়। এতে সীমিত আকারে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনের সানায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়। অর্থাৎ বিমানবন্দর থেকে তেল স্থাপনা, দুই পক্ষের হামলা এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর দিকে যাচ্ছে।

এতে সৌদি আরবের জন্য ঝুঁকি শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিকও।

দেশটির অর্থনীতির বড় একটি অংশ তেলনির্ভর। তাই বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, পাইপলাইন বা বন্দরকে দীর্ঘ সময় ঝুঁকির মধ্যে রাখতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। চলমান হামলার মধ্যেই রিয়াদে বড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরব একদিকে সামরিক প্রতিক্রিয়া জোরদার করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চাইছে। তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এগিয়ে এসেছে। নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় দ্রুত সামরিক সক্ষমতা ও সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। 

তবে সংঘাত যত বাড়ছে, ততই কঠিন হচ্ছে সৌদির সামনে থাকা সিদ্ধান্ত।

হুথিদের ওপর বিমান হামলা বাড়ালে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার হামলা কমিয়ে আলোচনায় গেলে সেটিকে হুথিদের কাছে দুর্বলতার সংকেত হিসেবে দেখা হতে পারে।

আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই সংঘাতে কোনো একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাই পুরো দেশকে নিরাপদ রাখতে পারবে না। সৌদির বিশাল ভূখণ্ড, বিপুল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং হুথিদের তুলনামূলক সস্তা কিন্তু বহুমুখী ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কৌশল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করছে। 

তাই এখন প্রশ্ন শুধু হুথিদের পরবর্তী হামলা কোথায় হবে, তা নয়।

প্রশ্ন হলো, বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় করেও সৌদি আরব কি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে নির্ভরযোগ্যভাবে সুরক্ষিত করতে পারবে? নাকি এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত রিয়াদকে সামরিক সমাধানের পাশাপাশি নতুন করে কূটনৈতিক পথ খুঁজতে বাধ্য করবে?

ট্যাগ : সৌদি আরব হুথি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


প্রতিরক্ষায় বিপুল ব্যয়, তবুও কেন হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অস্ত্রের অভাব নেই। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান আছে। প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আছে। প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ব্যয় হচ্ছে ৮৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবু ইয়েমেনের হুথিদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। 

গত এক সপ্তাহের ঘটনাই যেন সেই প্রশ্ন আরও তীব্র করে তুলেছে। সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর হামলা হয়েছে। ১০ অক্টোবরের হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন একই বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে আবার হামলা হলে আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। 

এরপর বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হয়। সৌদি আকাশসীমার একটি বড় অংশেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অর্থাৎ হামলার লক্ষ্য শুধু ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো নয়, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি করাও। 

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার পরও এমন হামলা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?

এর একটি বড় কারণ সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ড ও ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। রাজধানী রিয়াদ থেকে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, বন্দর ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক স্থাপনা রক্ষা করতে হয়। সব জায়গায় একই মাত্রার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা সম্ভব নয়।

আর হুথিরা ঠিক এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করছে। একদিকে কিছু অস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে একাধিক দিক থেকে আসা হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা হুথিদের অন্যতম কৌশল। 

হুথিরা অবশ্য এই সক্ষমতা রাতারাতি অর্জন করেনি।

বছরের পর বছর ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধ করতে করতে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারে দক্ষতা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা হুথিদের হাতে ইরানি প্রযুক্তি ও অস্ত্রের বিভিন্ন নিদর্শন শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে অস্ত্র ও প্রযুক্তি উৎপাদনের সক্ষমতাও তাদের বেড়েছে। 

জনবলও এখন আর আগের অবস্থায় নেই। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, ২০২৪ সাল নাগাদ হুথিদের নিয়োগ করা যোদ্ধার সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এই সংখ্যাকে সক্রিয় যোদ্ধার নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হুথিদের মোকাবিলায় শুধু আকাশ প্রতিরক্ষা দিয়ে সমস্যার পুরো সমাধান করা কঠিন। কারণ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ধ্বংস করার পাশাপাশি কোথা থেকে সেগুলো উৎক্ষেপণ হচ্ছে, কোথায় অস্ত্রের মজুত রয়েছে এবং কীভাবে উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংস করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এখানেই সৌদি আরবের সামনে বড় সামরিক ও রাজনৈতিক সমস্যা।

ইয়েমেনের পাহাড়ি ভূখণ্ডে হুথিদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন। তাদের মোবাইল লঞ্চার দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়। আর সরাসরি স্থল অভিযান চালিয়ে হুথিদের পরাস্ত করার ঝুঁকিও অনেক বেশি। দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থাকা এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও এখন পর্যন্ত দ্রুত কোনো निर्णায়ক সাফল্য দেখাতে পারেনি। 

এর মধ্যে সংঘাতের নতুন একটি দিক তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোও হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

১৩ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দহরানে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয়। এতে সীমিত আকারে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনের সানায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়। অর্থাৎ বিমানবন্দর থেকে তেল স্থাপনা, দুই পক্ষের হামলা এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর দিকে যাচ্ছে।

এতে সৌদি আরবের জন্য ঝুঁকি শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিকও।

দেশটির অর্থনীতির বড় একটি অংশ তেলনির্ভর। তাই বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, পাইপলাইন বা বন্দরকে দীর্ঘ সময় ঝুঁকির মধ্যে রাখতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। চলমান হামলার মধ্যেই রিয়াদে বড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরব একদিকে সামরিক প্রতিক্রিয়া জোরদার করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চাইছে। তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এগিয়ে এসেছে। নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় দ্রুত সামরিক সক্ষমতা ও সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। 

তবে সংঘাত যত বাড়ছে, ততই কঠিন হচ্ছে সৌদির সামনে থাকা সিদ্ধান্ত।

হুথিদের ওপর বিমান হামলা বাড়ালে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার হামলা কমিয়ে আলোচনায় গেলে সেটিকে হুথিদের কাছে দুর্বলতার সংকেত হিসেবে দেখা হতে পারে।

আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই সংঘাতে কোনো একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাই পুরো দেশকে নিরাপদ রাখতে পারবে না। সৌদির বিশাল ভূখণ্ড, বিপুল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং হুথিদের তুলনামূলক সস্তা কিন্তু বহুমুখী ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কৌশল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করছে। 

তাই এখন প্রশ্ন শুধু হুথিদের পরবর্তী হামলা কোথায় হবে, তা নয়।

প্রশ্ন হলো, বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় করেও সৌদি আরব কি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে নির্ভরযোগ্যভাবে সুরক্ষিত করতে পারবে? নাকি এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত রিয়াদকে সামরিক সমাধানের পাশাপাশি নতুন করে কূটনৈতিক পথ খুঁজতে বাধ্য করবে?


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ