ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি শব্দে মসজিদের লাউডস্পিকার ব্যবহারের অভিযোগে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় মসজিদের লাউডস্পিকার জব্দ করা হয়েছে এবং দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার নাজিবাবাদ এলাকায়। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে একটি জনশুনানি কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় মসজিদ থেকে উচ্চ শব্দে আজানের আওয়াজ শুনতে পান। পরে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে মসজিদে গিয়ে লাউডস্পিকার পরীক্ষা করা হয়। পুলিশের দাবি, সেটি অনুমোদিত শব্দসীমার বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা হচ্ছিল।
পুলিশ মোহাম্মদ ফাইজান নামে ওই মুয়াজ্জিনকে আটক করে। পরে উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে তাকে ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিধি লঙ্ঘন এবং শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদটির লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি ছিল না অথবা সেটি নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ঘটনাস্থলে ঠিক কত ডেসিবেল শব্দ মাপা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বিজনোর জেলার সব থানাকে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে ব্যবহৃত লাউডস্পিকারের শব্দমাত্রা নিয়ে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন বা হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নাজিবাবাদ এলাকার দায়িত্বে থাকা বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের ভাষ্য, ধর্মীয় স্থাপনায় লাউডস্পিকার ব্যবহারের নিয়ম যথাযথভাবে তদারক করতে ব্যর্থতার কারণে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজনোর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্থান হলেও নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রশাসনের দাবি, এ অভিযান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিধি বাস্তবায়নের অংশ।
তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন মতও সামনে এসেছে। নাজিবাবাদের শহর কাজি আফান-উল-হক বলেছেন, নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ হয়ে থাকলে সতর্ক করে ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে চলার সুযোগ দেওয়া যেত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া,
মন্তব্যসমূহ