যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান আগ্রহী বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার ভাষ্য, তেহরান কীভাবে সেই চুক্তিতে পৌঁছাবে, সেটিই তারা জানে না।
রোববার (১১ অক্টোবর) ওহাইওর ইয়ংস্টাউনে এক নির্বাচনী সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু কীভাবে তা করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের ধারণা নেই।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি এখনো পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এরই মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার পুরোপুরি ত্যাগ করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের অবস্থানে বড় পার্থক্য রয়েছে। ইরান প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবকে যথেষ্ট মনে করেনি। বর্তমানে তেহরান ওয়াশিংটনের সর্বশেষ জবাব পর্যালোচনা করছে।
ট্রাম্প অবশ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ না দেওয়ার অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী কার্যত অকার্যকর এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের পূর্বাভাস, সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যেতে পারে। রোববারও তিনি যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তেলের দাম ‘পাথরের মতো’ পড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেন।
তবে চুক্তির প্রশ্নে এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। আর তেহরানের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান।
অর্থাৎ, দুই পক্ষই আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। কিন্তু কী শর্তে যুদ্ধ থামবে, হরমুজ কীভাবে খুলবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
সূত্র: আলজাজিরা
মন্তব্যসমূহ