স্পেনে আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবাসন সংকট মোকাবিলায় সংখ্যালঘু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সোমবার (৫ অক্টোবর) আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সানচেজ বলেন, “We need to renew people's support.” একই সঙ্গে পার্লামেন্টে আরও বড় প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি। ২০১৮ সাল থেকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন সানচেজ।
গত শুক্রবার পার্লামেন্টে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আবাসনসংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করা সানচেজের জন্য এ ঘটনা বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা বাড়ানোসহ কয়েকটি ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিল।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ভাড়ার চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মতো ব্যবস্থা ছিল। তবে কাতালান বিচ্ছিন্নতাবাদী দল জুনটসসহ বিরোধীদের আপত্তির কারণে প্রস্তাবগুলো পার্লামেন্টে আটকে যায়। জুনটসের বক্তব্য ছিল, এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভাড়ার জন্য বাড়ির সরবরাহ কমে গিয়ে সংকট আরও বাড়তে পারে।
আবাসন সংস্কারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর শনিবার স্পেনজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। মাদ্রিদসহ প্রায় ৫০টি শহরে হাজার হাজার মানুষ আবাসন সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে রাস্তায় নামেন। শুধু মাদ্রিদের কর্মসূচিতেই প্রায় ৭০ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে স্প্যানিশ সরকারের তথ্য।
সাম্প্রতিক এই আন্দোলনের পেছনে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাজকালকে মাদ্রিদের বাসা থেকে উচ্ছেদ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবাসনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়।
স্পেনের আবাসন সংকট দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর একটি। বাড়ির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা এবং ভাড়া ও সম্পত্তির দাম বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবেও সানচেজের সরকার বেশ কিছুদিন ধরে পার্লামেন্টে চাপে রয়েছে। তার সরকার ২০২৩ সালের পর নতুন বাজেট পাস করতে পারেনি এবং বিভিন্ন আইন অনুমোদনের জন্য ছোট দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক অধিকাংশ জনমত জরিপে সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টির তুলনায় প্রধান বিরোধী পিপলস পার্টি (পিপি) এগিয়ে রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে এসব জরিপ নির্বাচনের ফল নয় এবং ভোটের আগে জনমত পরিবর্তিত হতে পারে।
আগাম নির্বাচনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে আবাসন সংকট এবং পার্লামেন্টে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধানে নতুন করে জনগণের সমর্থন চাইছেন সানচেজ।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ