২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতিকে সামনে রেখে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
ফারজানা শারমীন বলেন, বর্তমান অর্থমন্ত্রী এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যেখানে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এর কার্যকর বাস্তবায়ন। সরকার সেই দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যে কাঠামোগত দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, তা একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের সেবার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফারজানা শারমীন বলেন, নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণে আত্মমর্যাদা, আত্মনির্ভরশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা প্রয়োজন। মতভেদ ভুলে পরিচ্ছন্ন, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের নির্বাচনী এলাকা নাটোরের বিভিন্ন উন্নয়ন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চলগুলোকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেমন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব এলাকার সম্ভাবনা কাজে লাগানো যেতে পারে। একই সঙ্গে বালুমহালকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ