ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘কোনো না কোনোভাবে’ জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে শিগগিরই বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং দেশটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তার দাবি, ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে বেশি পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে মূল্যস্ফীতিও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরাক থেকে সর্বশেষ মার্কিন সেনাও এখন চলে গেছে। দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে। ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক—উভয় দেশের জন্যই বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৮ জন আহত হয়েছিলেন। কয়েকজন সেনা সেখানে হাত-পা হারিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ইরাকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তার মতে, আফগানিস্তানের মতো নয়, ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, মিত্রবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জাম পরিকল্পিতভাবে ইরাক থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে উল্লিখিত ইরানের সামরিক সক্ষমতা, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এবং তেল পরিবহনের পরিমাণসংক্রান্ত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ