যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির উদ্যোক্তা, পেশাজীবী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে সংলাপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির কাছে অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেডার হলে স্থানীয় সময় রোববার ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল এ সংলাপের আয়োজন করে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যাওয়া প্রতিনিধি দলের একটি অংশ ওই সংলাপে অংশ নেয়।
সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আর্থিক নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও দক্ষ কর্মসংস্থানকে কীভাবে সমর্থন দেওয়া যায়, তা মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।
তিনি সম্ভাব্য প্রকল্প, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক সহযোগী এবং স্পষ্ট পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। যেকোনো সহযোগিতা যেন জনসেবার উন্নতি ঘটায় এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
সংলাপে বাংলাদেশের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিষয়ে উপস্থাপনা দেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-চ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক শরীফা সুলতানা, উবারের প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক মোস্তফা পাটওয়ারি।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং এর ইকোসিস্টেম উন্নয়ন নিয়ে উপস্থাপনা করেন গ্লোবালফাউন্ড্রির মাহবুব রাশেদ।
এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ার অধ্যাপক সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় ‘মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রেডো সেমিকন্ডাক্টরের শাতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ইউসুফ হক, ইনটেলের সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআই-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা বদরুল সরকার বক্তব্য দেন।
সংলাপে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অর্জনের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতি রয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে প্রযুক্তি স্থানান্তর, জনশক্তির উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের সংযোগ স্থাপন।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল।
সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, এআই, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্তব্যসমূহ