ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চাল-গমের মান পরীক্ষায় মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী

বিদেশ থেকে আমদানি করা চাল ও গমের গুণগত মান যাচাই এবং দীর্ঘ সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে খাদ্যশস্য পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ অনুরোধ জানান তিনি।বৈঠকে দুই দেশের খাদ্য খাতের সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আমদানি করা খাদ্যশস্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।খাদ্যমন্ত্রী জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি করা চাল ও গমের গুণগত মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। এ জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলায় খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।এই কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।বৈঠকে বাংলাদেশের আবহাওয়াগত পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন খাদ্যশস্য সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরেন আফরোজা খানম।তিনি জানান, বিশেষ করে চাল ও গম দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।খাদ্যমন্ত্রীর অনুরোধের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা জানান।বিশেষ করে খাদ্যশস্যের মান পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রমে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রীর কার্যক্রমের প্রশংসাও করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।তবে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা নির্দিষ্ট সময়সূচির কথা জানানো হয়নি।বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানির বিষয়টিও বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।উভয় পক্ষ জানায়, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। এ কার্যক্রমে কোনো সমস্যা না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত।সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা গমবাহী জাহাজ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতাও রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিনিময় করেন।খাদ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।বৈঠকে খাদ্যশস্য আমদানি, পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। তবে প্রস্তাবিত সহযোগিতা বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চাল-গমের মান পরীক্ষায় মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী