ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আরব দেশের কিছু মার্কিন ঘাঁটি ইসরাইলে সরানোর পরিকল্পনা পেন্টাগনের

আরব দেশের কিছু মার্কিন ঘাঁটি ইসরাইলে সরানোর পরিকল্পনা পেন্টাগনের
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার না করলেও স্যাটেলাইট চিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং সাবেক ও বর্তমান মার্কিন সামরিক সদস্যদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জুন মাসের মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলায় কমান্ড হেডকোয়ার্টারসহ অন্তত এক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রিয়েল-টাইম সামরিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত দুটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং ঘাঁটির কার্যক্রমও পুরোপুরি ব্যাহত হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে অধিকাংশ কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমানে সীমিতসংখ্যক সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে থিঙ্কট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর এক প্রতিবেদনে যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২ দশমিক ২ থেকে ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু বাহরাইনের এই ঘাঁটি পুনর্নির্মাণেই প্রায় ৪০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও ঘাঁটির নিরাপত্তা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে ওয়াশিংটন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার বাইরে কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে আরও পশ্চিমে ঘাঁটির কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে স্থানান্তর এবং বিকল্প সামরিক কেন্দ্র হিসেবে ইসরাইলকে বিবেচনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাহরাইনের রাজা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করলেও তিনি সৌদি আরব সফর করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারে সৌদি আরবের বিধিনিষেধ দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব বাড়িয়েছে।

সাবেক মার্কিন বিমান বাহিনীর সহকারী সেক্রেটারি ড. রবি চৌধুরী বলেন, ইরানের নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যৎ সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কোন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করবে, কোনটি স্থানান্তর করবে এবং কোথায় নতুন কৌশল গ্রহণ করবে—সেই সিদ্ধান্তই আগামী দিনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মার্কিন প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ট্যাগ : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আরব দেশের কিছু মার্কিন ঘাঁটি ইসরাইলে সরানোর পরিকল্পনা পেন্টাগনের

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার না করলেও স্যাটেলাইট চিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং সাবেক ও বর্তমান মার্কিন সামরিক সদস্যদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জুন মাসের মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলায় কমান্ড হেডকোয়ার্টারসহ অন্তত এক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রিয়েল-টাইম সামরিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত দুটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং ঘাঁটির কার্যক্রমও পুরোপুরি ব্যাহত হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে অধিকাংশ কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমানে সীমিতসংখ্যক সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে থিঙ্কট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর এক প্রতিবেদনে যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২ দশমিক ২ থেকে ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু বাহরাইনের এই ঘাঁটি পুনর্নির্মাণেই প্রায় ৪০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও ঘাঁটির নিরাপত্তা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে ওয়াশিংটন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার বাইরে কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে আরও পশ্চিমে ঘাঁটির কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে স্থানান্তর এবং বিকল্প সামরিক কেন্দ্র হিসেবে ইসরাইলকে বিবেচনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাহরাইনের রাজা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করলেও তিনি সৌদি আরব সফর করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারে সৌদি আরবের বিধিনিষেধ দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব বাড়িয়েছে।

সাবেক মার্কিন বিমান বাহিনীর সহকারী সেক্রেটারি ড. রবি চৌধুরী বলেন, ইরানের নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যৎ সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কোন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করবে, কোনটি স্থানান্তর করবে এবং কোথায় নতুন কৌশল গ্রহণ করবে—সেই সিদ্ধান্তই আগামী দিনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মার্কিন প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ