পাকিস্তানে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নির্ধারিত মহাসমাবেশ ও লংমার্চকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বজন ও দলীয় কর্মীদের ওপর ‘নজিরবিহীন দমনপীড়নের’ অভিযোগ তুলে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন তার বড় ছেলে সুলেমান খান। একই সঙ্গে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোটকে ‘স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
লন্ডনে অবস্থানরত ২৯ বছর বয়সী সুলেমান খান সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, মধ্যরাতে কোনো কারণ ছাড়াই পরিবারের নারী সদস্যদের তুলে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। তার দাবি, এটি পাকিস্তানে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা চলার প্রমাণ।
রোববারের লংমার্চ ঠেকানোর উদ্যোগের মধ্যে সম্প্রতি লাহোরে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয় এবং পিটিআইয়ের শত শত নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমরান খানের দল পিটিআই রোববার রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের ডাক দিয়েছে। দলটির নেতারা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ কয়েক দিন ধরে চলতে পারে—এমন প্রস্তুতি তারা নিচ্ছেন।
এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মিছিলটি ঠেকানোর পরিকল্পনা করছে। এ জন্য রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কনটেইনার বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে ‘বহুসংখ্যক হতাহতের ঘটনা’র জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে আচরণের সমালোচনা করে সুলেমান সেটিকে ‘অমানবিক ও অবৈধ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কোনো কারণ না দেখিয়ে গভীর রাতে নারী ও শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তার মতে, এসব ঘটনা পাকিস্তানে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা চলার অভিযোগকে আরও জোরালো করে।
সুলেমান খান বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা যা করতে পারি, তা হলো বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে যাওয়া এবং রাজনীতিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা। শুধু আমাদের বাবার সঙ্গে যে ভয়াবহ ও বেআইনি আচরণ করা হচ্ছে, তা নয়; তার পরিবার, দল এবং সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারী সাধারণ মানুষের সঙ্গেও যে আচরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়েও কথা বলতে হবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইমরান খানের আরেক ছেলে কাশিম খান লেখেন, পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে কিংবা সহিংসতার হুমকি দিয়ে ২৫ কোটি মানুষের একটি দেশকে স্তব্ধ করা যাবে না। কোনো শাসনব্যবস্থাই জনগণের চেয়ে শক্তিশালী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ব্যাপক ধরপাকড় এবং মৌলিক অধিকার সীমিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাবু রাম পান্ত বলেন, ‘ইমরান খানের পরিবার ও পিটিআইয়ের কর্মীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, সংগঠন করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
মন্তব্যসমূহ