জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রভাব এবার প্রকাশ্যে এসেছে কূটনৈতিক পরিসরেও। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের একটি অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
শুক্রবার জাতিসংঘের অধিবেশনের সাইডলাইনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও লাইবেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারা বেইসোলো ন্যান্টি সমুদ্রপথে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে একটি উদ্যোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
আলোচনার একপর্যায়ে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করবে। জবাবে জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’
এরপর জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি ওই সাংবাদিককে জানান, তিনি মন্ত্রীর জবাব পেয়েছেন। পরে জয়শঙ্কর ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা সেখান থেকে চলে যান।
এই ঘটনার একদিন আগে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে প্রবেশের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এক ভারতীয় সাংবাদিক। তাঁকে পাকিস্তান কবে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবে—এমন প্রশ্ন করা হয়। পরে হাফিজ সাইদকে বিচারের মুখোমুখি করা নিয়ে আরেকটি প্রশ্নও করা হয়েছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম বিরোধের বিষয়। দুই দেশই বিভিন্ন সময়ে একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বা পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলেছে। জাতিসংঘের চলমান অধিবেশনের বিভিন্ন আয়োজনেও সেই বিরোধের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
জয়শঙ্করের সঙ্গে ওই বিতর্কের ঘটনাটি ঘটে মূলত সমুদ্রপথ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সংবাদ সম্মেলনের সময়। ভারত ও লাইবেরিয়া এ বিষয়ে ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অন সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অব শিপিং অ্যান্ড সিফ্যারার্স’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তানের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
মন্তব্যসমূহ