ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চট্টগ্রামে এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা সিআইএমসির

চট্টগ্রামে এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা সিআইএমসির
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের পর চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ (সিআইএমসি)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কলেজের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন সেলিব্রেশন’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) গঠন করা হয়। ২০২২ সালে জাতীয় সংসদে অ্যাক্রেডিটেশন আইন পাসের পর এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

সিআইএমসি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের সরকারি-বেসরকারি ও আর্মি মিলিয়ে ১২৪টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে। যাচাই-বাছাইয়ের পর বিভিন্ন ধাপে আটটি মেডিকেল কলেজ স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রথম দফায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং দ্বিতীয় দফায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ স্বীকৃতি পায়।

তৃতীয় দফায় স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। এর মধ্য দিয়ে দেশে এ স্বীকৃতি পাওয়া মেডিকেল কলেজের সংখ্যা আটটিতে পৌঁছেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সিআইএমসি বর্তমানে প্রতিষ্ঠার ১৩তম বছর অতিক্রম করছে। এ সময়ের মধ্যে কলেজের উদ্যোগে চারটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এসব সম্মেলনে ১৫টি দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।

আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমঝোতা স্মারক রয়েছে বলেও জানানো হয়।

বর্তমানে মেডিকেল কলেজটির সঙ্গে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালের ২১টি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর চাপ বেশি থাকায় প্রায়ই হাসপাতালের শয্যা পূর্ণ হয়ে যায় এবং শয্যার অভাবে কিছু রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ১০ শতাংশকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে আরও এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রয়োজন বলে মনে করছে সিআইএমসি। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রাথমিক কাগজপত্র তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তবে এত বড় প্রকল্প শুধু নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন কঠিন হওয়ায় সরকার, বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

একই ক্যাম্পাসে গত ২২ বছর ধরে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ৬৫ ইউনিটের ডেন্টাল হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি গত আট বছর ধরে একটি নার্সিং কলেজও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ও সিআইএমসির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন।

এ সময় এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সভাপতি ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ইসি সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী, সাবেক অধ্যক্ষ ও একাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতান এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিনা আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ বিএমইএসি

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চট্টগ্রামে এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা সিআইএমসির

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের পর চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ (সিআইএমসি)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কলেজের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন সেলিব্রেশন’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) গঠন করা হয়। ২০২২ সালে জাতীয় সংসদে অ্যাক্রেডিটেশন আইন পাসের পর এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

সিআইএমসি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের সরকারি-বেসরকারি ও আর্মি মিলিয়ে ১২৪টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে। যাচাই-বাছাইয়ের পর বিভিন্ন ধাপে আটটি মেডিকেল কলেজ স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রথম দফায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং দ্বিতীয় দফায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ স্বীকৃতি পায়।

তৃতীয় দফায় স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। এর মধ্য দিয়ে দেশে এ স্বীকৃতি পাওয়া মেডিকেল কলেজের সংখ্যা আটটিতে পৌঁছেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সিআইএমসি বর্তমানে প্রতিষ্ঠার ১৩তম বছর অতিক্রম করছে। এ সময়ের মধ্যে কলেজের উদ্যোগে চারটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এসব সম্মেলনে ১৫টি দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।

আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমঝোতা স্মারক রয়েছে বলেও জানানো হয়।

বর্তমানে মেডিকেল কলেজটির সঙ্গে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালের ২১টি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর চাপ বেশি থাকায় প্রায়ই হাসপাতালের শয্যা পূর্ণ হয়ে যায় এবং শয্যার অভাবে কিছু রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ১০ শতাংশকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে আরও এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রয়োজন বলে মনে করছে সিআইএমসি। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রাথমিক কাগজপত্র তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তবে এত বড় প্রকল্প শুধু নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন কঠিন হওয়ায় সরকার, বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

একই ক্যাম্পাসে গত ২২ বছর ধরে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ৬৫ ইউনিটের ডেন্টাল হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি গত আট বছর ধরে একটি নার্সিং কলেজও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ও সিআইএমসির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন।

এ সময় এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সভাপতি ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ইসি সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী, সাবেক অধ্যক্ষ ও একাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতান এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিনা আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ