সুইডেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী জোটের পরাজয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন উলফ ক্রিস্টারসন। চূড়ান্ত ভোট গণনার পর মধ্য-বামপন্থী বিরোধী জোট ১৭৬টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ১৭৩টি আসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ক্রিস্টারসন পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সুইডেনের ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ১৭৬। অন্যদিকে ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন মডারেট পার্টি, সুইডেন ডেমোক্র্যাটস, ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস ও লিবারেল পার্টির জোট পেয়েছে ১৭৩ আসন। দুই পক্ষের ভোটের ব্যবধান ছিল ৫০ হাজার ৩৫৯।
নির্বাচনে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তবে নতুন সরকার গঠন সহজ হবে না। বামপন্থী ও মধ্যপন্থী দলগুলোর মধ্যে করনীতি, অর্থনীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া জোটকে সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।
ক্রিস্টারসনের জোটকে এতদিন বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছিল অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস (এসডি)। এবারের নির্বাচনে দলটির ভোটের হার কমেছে এবং পার্লামেন্টে তাদের আসনও আগের তুলনায় কমেছে। দলটি এবার ৬২টি আসন পেয়েছে।
ক্রিস্টারসনের পদত্যাগের পর সুইডেনের পার্লামেন্টের স্পিকার আন্দ্রেয়াস নরলেন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একজন প্রার্থীকে সংসদে প্রস্তাব করবেন।
সংসদে প্রস্তাবিত প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর ওপর ভোট হবে। প্রস্তাবিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্য ভোট না দিলে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত ক্রিস্টারসন ও তার মন্ত্রিসভা অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালন করবে।