একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও সুস্থ জাতি গঠনে মাদকমুক্ত সমাজের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে সরকার কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
আগামীকাল ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসন সমন্বিতভাবে মাদকের বিস্তার রোধে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সমাজকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার এখন আর কোনো একক দেশের সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। দেশের বিপুল কর্মক্ষম যুবসমাজকে মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। তবে অবৈধ মাদকের বিস্তার এই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বাণীতে তিনি ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।