জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে ভেজাল, নিম্নমানের বা ক্ষতিকর পণ্য কিনতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশের বিপুলসংখ্যক ভোক্তার অধিকার রক্ষায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অধিদপ্তরকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতির সংযোজন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া অধিদপ্তরের বিদ্যমান বিভিন্ন সেবা পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এর ফলে ভোক্তাদের সেবা গ্রহণ ও অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতির চেয়ে মানুষের জীবনে সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যক্রমের গুরুত্ব অনেক বেশি।
সভায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, জনবল এবং সেবা কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর মাধ্যমে গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত, আধুনিক ও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।