ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আসিফ মাহমুদ ও স্ত্রীর ব্যাংক-সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক

আসিফ মাহমুদ ও স্ত্রীর ব্যাংক-সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দেশ-বিদেশের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর নামে থাকা চালু, সুপ্ত ও বন্ধ হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্রের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ড চেয়েছে দুদক। ওই দেশগুলোতে কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগ রয়েছে কি না, বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত এমন তথ্যও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহেদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি দুদকের কাছে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন এবং অর্থপাচারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এসব অভিযোগ আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নতুন অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে বিপুল অর্থপাচারের দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ স্থানান্তর এবং পর্তুগালে জমি কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করছে দুদক।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়ন, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

অভিযোগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ এর আগে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে তার মানহানি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের এক কর্মকর্তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়।

দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসন্ধান শেষে নেওয়া হবে।

ট্যাগ : দুদক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আসিফ মাহমুদ ও স্ত্রীর ব্যাংক-সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দেশ-বিদেশের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর নামে থাকা চালু, সুপ্ত ও বন্ধ হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্রের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ড চেয়েছে দুদক। ওই দেশগুলোতে কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগ রয়েছে কি না, বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত এমন তথ্যও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহেদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি দুদকের কাছে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন এবং অর্থপাচারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এসব অভিযোগ আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নতুন অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে বিপুল অর্থপাচারের দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ স্থানান্তর এবং পর্তুগালে জমি কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করছে দুদক।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়ন, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

অভিযোগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ এর আগে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে তার মানহানি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের এক কর্মকর্তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়।

দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসন্ধান শেষে নেওয়া হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ