ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ওমান হয়ে বাড়তি তেল দেবে সৌদি, কমল বিশ্ববাজারের দাম

ওমান হয়ে বাড়তি তেল দেবে সৌদি, কমল বিশ্ববাজারের দাম
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ওমানের মাধ্যমে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে বাড়তি অপরিশোধিত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এ খবর প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমে এবং বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে আসে। 

দিন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও কমে। আগের দিন ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল লোডিং বন্ধ এবং কিছু ইউরোপীয় ক্রেতার চালান বাতিলের খবরে তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরামকো ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে এশীয় শোধনাগারগুলোতে বাড়তি তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আরব লাইট, আরব মিডিয়াম ও আরব হেভি—এই তিন ধরনের তেল এভাবে সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর ইয়ানবু বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই পাইপলাইনটি সৌদির পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরীয় বন্দর ইয়ানবুতে তেল পৌঁছে দেয় এবং হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থা সামনে আসায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। মঙ্গলবার সেখানে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল ১৮টি। 

বাজারে চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও। দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে, যা বিশ্লেষকদের ১৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমার পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কম। ফলে বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক রয়েছে—এমন ধারণা জোরালো হয়েছে। 

অন্যদিকে পেট্রল ও ডিজেলের মজুতও বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে স্বল্পমেয়াদে তেলের দামের ওপর আরও চাপ থাকতে পারে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি। হুতি হামলা, সৌদি পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালিতে সীমিত নৌ চলাচল এবং রাশিয়ার শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার কারণে বিশেষ করে ডিজেলের বাজারে চাপ রয়ে গেছে। ইউরোপে ডিজেল ফিউচারস ইতোমধ্যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা স্বল্পমেয়াদে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম উঁচু রাখতে পারে। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তাদের ধারণা। 

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : সৌদি আরব ওমান অপরিশোধিত তেল

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ওমান হয়ে বাড়তি তেল দেবে সৌদি, কমল বিশ্ববাজারের দাম

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ওমানের মাধ্যমে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে বাড়তি অপরিশোধিত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এ খবর প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমে এবং বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে আসে। 

দিন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও কমে। আগের দিন ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল লোডিং বন্ধ এবং কিছু ইউরোপীয় ক্রেতার চালান বাতিলের খবরে তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরামকো ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে এশীয় শোধনাগারগুলোতে বাড়তি তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আরব লাইট, আরব মিডিয়াম ও আরব হেভি—এই তিন ধরনের তেল এভাবে সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর ইয়ানবু বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই পাইপলাইনটি সৌদির পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরীয় বন্দর ইয়ানবুতে তেল পৌঁছে দেয় এবং হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থা সামনে আসায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। মঙ্গলবার সেখানে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল ১৮টি। 

বাজারে চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও। দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে, যা বিশ্লেষকদের ১৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমার পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কম। ফলে বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক রয়েছে—এমন ধারণা জোরালো হয়েছে। 

অন্যদিকে পেট্রল ও ডিজেলের মজুতও বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে স্বল্পমেয়াদে তেলের দামের ওপর আরও চাপ থাকতে পারে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি। হুতি হামলা, সৌদি পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালিতে সীমিত নৌ চলাচল এবং রাশিয়ার শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার কারণে বিশেষ করে ডিজেলের বাজারে চাপ রয়ে গেছে। ইউরোপে ডিজেল ফিউচারস ইতোমধ্যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা স্বল্পমেয়াদে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম উঁচু রাখতে পারে। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তাদের ধারণা। 

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ