আজ থেকেই সারা দেশে গ্যাসের প্রবাহ বেড়েছে এবং দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী
আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে হলে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘গ্যাসের প্রবাহ বেড়েছে, এর ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। জ্বালানি সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপরও লংমার্চের প্রয়োজন কেন, তা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে সরকার সহযোগিতা করেছে। তারপরও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সরকার বিশ্বাসী। বিরোধী দলের দাবিগুলো নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তেল-গ্যাসের দাবিতে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার যেসব বিষয়কে নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে বাস্তবায়নে কাজ করছে, সেগুলো নিয়েই আবার আন্দোলন কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য আগের সরকারের নীতির দায় রয়েছে—বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এ বক্তব্যের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সার মজুত রয়েছে। অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সংসদকেই সমস্যা সমাধানের পথ মনে করে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই সরকারেরও দাবি।
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরই মধ্যে সাতজনের ফাঁসি হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
মাহদী আমিন জানান, ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। জুলাই শহীদদের পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার ও বিরোধী দলের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সংসদ কার্যকর রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল রাষ্ট্র বলে দাবি করেছেন মাহ্দী আমিন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমবাজার চালু হলে প্রথম দফায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর জন্য আবেদন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজন মাহমুদ এবং সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।