১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বিভিন্ন সময়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে তাঁর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির সংসদীয় সম্পর্ক, গণতন্ত্র, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে। পাকিস্তান আমলে বৈষম্য ও রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা একাধিকবার ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এগুলো স্পিকারের রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ। এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভিন্ন বক্তব্য ও ব্যাখ্যা রয়েছে।
স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের দাবিতে আন্দোলন করেছে এবং সেই আকাঙ্ক্ষা এখনো দেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মান পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে মতামত দেন। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ও শক্তিশালী করতে জার্মানির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় কমিটি ও মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জার্মান বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও উঠে আসে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জার্মান বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান স্পিকার। দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি এ খাতে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।
সার কারখানা স্থাপনসহ আরও কয়েকটি শিল্পখাতে জার্মান বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।