ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তিস্তা প্রকল্প ও নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সমর্থন পেল বাংলাদেশ

তিস্তা প্রকল্প ও নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সমর্থন পেল বাংলাদেশ
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। এই সহযোগিতার আওতায় ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা দিয়াওইউতাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুইংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান নদী খনন কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বন্যার ঝুঁকি কমানো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। তিনি পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের আরও বড় পরিসরের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি সহায়তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথ সম্প্রসারণেও সহযোগিতা চান।

জবাবে চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, পানি সম্পদ খাতে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ২০০৫ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এই সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

লি গুইং জানান, গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং চলমান সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত বিনিময় আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা বাস্তবমুখী, গবেষণানির্ভর এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠেছে।

এ সময় বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য চীন সফরের আমন্ত্রণও জানান চীনা মন্ত্রী।

বাংলাদেশে নদীভাঙন এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর নদীভাঙনের কারণে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন। অন্যদিকে, তিস্তা নদী প্রকল্প দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক মন্ত্রী বলেন, পানি সম্পদ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নতুন অংশীদারত্বের ক্ষেত্র অনুসন্ধানে দুই দেশের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, মাহদি আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : বাংলাদেশ চীন তিস্তা ব্যারেজ তিস্তা নদী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তিস্তা প্রকল্প ও নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সমর্থন পেল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। এই সহযোগিতার আওতায় ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা দিয়াওইউতাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুইংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান নদী খনন কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বন্যার ঝুঁকি কমানো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। তিনি পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের আরও বড় পরিসরের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি সহায়তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথ সম্প্রসারণেও সহযোগিতা চান।

জবাবে চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, পানি সম্পদ খাতে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ২০০৫ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এই সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

লি গুইং জানান, গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং চলমান সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত বিনিময় আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা বাস্তবমুখী, গবেষণানির্ভর এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠেছে।

এ সময় বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য চীন সফরের আমন্ত্রণও জানান চীনা মন্ত্রী।

বাংলাদেশে নদীভাঙন এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর নদীভাঙনের কারণে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন। অন্যদিকে, তিস্তা নদী প্রকল্প দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক মন্ত্রী বলেন, পানি সম্পদ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নতুন অংশীদারত্বের ক্ষেত্র অনুসন্ধানে দুই দেশের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, মাহদি আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ