ঢাকা    শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সৌদিতে হুতিদের হামলা, প্রশ্নের মুখে মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা

সৌদিতে হুতিদের হামলা, প্রশ্নের মুখে মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর প্রশ্ন উঠেছে গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে। হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও সংহতি জানালেও সৌদি আরবের পাশে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি চুক্তির অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তান। বিশ্লেষকদের ধারণা, আপাতত সংঘাতে সরাসরি না জড়িয়ে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন সক্ষমতাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিতে পারে দেশ দুটি।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দেয় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। হামলায় বেসামরিক স্থাপনাসহ দেশটির চারটি শহর ও একটি তেল শোধনাগার আক্রান্ত হয়।

এই হামলার পর মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরব কতটা নির্ভরযোগ্য থাকবে এবং দ্বিতীয়ত, দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মক্কা চুক্তি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6aa4c393b4d1a" ) );

হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই সরাসরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেয়নি।

গত মাসে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সে হিসাবে সৌদি আরবে হামলার পর চুক্তির সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

এখন নজর রয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে হামলার ঘটনাকে চুক্তির আওতায় কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6aa4c393b4d3b" ) );

তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার সম্ভাবনা কম আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের। বরং রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে তারা।

তাদের মতে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হবে। তখন প্রশ্ন উঠবে—‘এক দেশের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা’—এই প্রতিশ্রুতি কি কেবল রাজনৈতিক অবস্থান, নাকি প্রয়োজনে যৌথ প্রতিরোধ গড়ার সক্ষমতাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা তাই শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্যই নয়, নতুন এই জোটের পারস্পরিক আস্থা, প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

ট্যাগ : হামলা ইরান সৌদি আরব

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সৌদিতে হুতিদের হামলা, প্রশ্নের মুখে মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর প্রশ্ন উঠেছে গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে। হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও সংহতি জানালেও সৌদি আরবের পাশে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি চুক্তির অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তান। বিশ্লেষকদের ধারণা, আপাতত সংঘাতে সরাসরি না জড়িয়ে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন সক্ষমতাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিতে পারে দেশ দুটি।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দেয় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। হামলায় বেসামরিক স্থাপনাসহ দেশটির চারটি শহর ও একটি তেল শোধনাগার আক্রান্ত হয়।

এই হামলার পর মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরব কতটা নির্ভরযোগ্য থাকবে এবং দ্বিতীয়ত, দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মক্কা চুক্তি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6aa4c393b4d1a" ) );

হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই সরাসরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেয়নি।

গত মাসে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সে হিসাবে সৌদি আরবে হামলার পর চুক্তির সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

এখন নজর রয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে হামলার ঘটনাকে চুক্তির আওতায় কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6aa4c393b4d3b" ) );

তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার সম্ভাবনা কম আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের। বরং রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে তারা।

তাদের মতে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হবে। তখন প্রশ্ন উঠবে—‘এক দেশের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা’—এই প্রতিশ্রুতি কি কেবল রাজনৈতিক অবস্থান, নাকি প্রয়োজনে যৌথ প্রতিরোধ গড়ার সক্ষমতাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা তাই শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্যই নয়, নতুন এই জোটের পারস্পরিক আস্থা, প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ