ইয়েমেনে চলমান সংঘাত নতুন করে বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে ইরান-সমর্থিত হুতিরা অগ্রসর হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
কাতারে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত ও দেশটির সাবেক সরকারি মুখপাত্র রাজেহ বাদি বুধবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব দাবি করেন।
তিনি বলেন, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের পাশাপাশি সমুদ্রপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।
বাদির অভিযোগ, হুতিরা তাইজ প্রদেশের আল-মাখা ও আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে তারা।
ইয়েমেন সরকারের দাবি, এসব এলাকা ব্যবহার করে হুতিরা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
এর জবাবে ইয়েমেন সরকার আল-জাওফ, মারিব ও আল-বাইদা এলাকায় নতুন সামরিক ফ্রন্ট খুলেছে বলে জানান বাদি। এতে দীর্ঘদিনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনি রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, হুতিদের এই তৎপরতার পেছনে ইরানের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। তার দাবি, ইরান হুতিদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চায়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হুতিরা যদি লোহিত সাগরের নৌ চলাচল কার্যত ব্যাহত করতে সক্ষম হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরেকটি হরমুজ প্রণালি সংকটের মতো রূপ নিতে পারে।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ রুট দিয়ে জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তবে হুতিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।