ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও থাকবে। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দিতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

এছাড়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ১০০টি উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ খাতে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের মানুষের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তাদের ভোগক্ষমতা ও জীবিকা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে কর্মাভাবকালীন ছয় মাস প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া সারা দেশে এক হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৪১৯টি উপজেলায় অতিরিক্ত ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণক্ষমতা ২৩ দশমিক ১৬ লাখ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ দশমিক ১৯ লাখ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৪১ দশমিক ২৯ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জন্য আলাদা অঙ্কভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা না হলেও সামগ্রিকভাবে ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের অংশ হিসেবে উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, বিশেষায়িত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন, সংরক্ষণাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও লজিস্টিকস খাত উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ট্যাগ : জাতীয় সংসদ অর্থমন্ত্রী মূল্যস্ফীতি

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও থাকবে। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দিতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

এছাড়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ১০০টি উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ খাতে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের মানুষের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তাদের ভোগক্ষমতা ও জীবিকা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে কর্মাভাবকালীন ছয় মাস প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া সারা দেশে এক হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৪১৯টি উপজেলায় অতিরিক্ত ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণক্ষমতা ২৩ দশমিক ১৬ লাখ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ দশমিক ১৯ লাখ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৪১ দশমিক ২৯ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জন্য আলাদা অঙ্কভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা না হলেও সামগ্রিকভাবে ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের অংশ হিসেবে উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, বিশেষায়িত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন, সংরক্ষণাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও লজিস্টিকস খাত উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ