ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩

সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।

গ্রেপ্তাররা হলেন নিশীথ সাহা ওরফে রুবেল ওরফে রুমেল ওরফে সুমন (৩২), মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৫০) ও মো. রিংকু হোসেন (৩২)।

ডিবি জানায়, নিশীথ নিজেকে বিভিন্ন সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের পিএস এবং মিজানুর রহমান নিজেকে ওই মন্ত্রণালয়ের অডিট অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। তারা মো. সবুজ সরকার (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

চক্রটি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য সবুজকে কর্মস্থল দেখানোর কথা বলে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চতুর্থ তলায় নিয়ে যায়। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র ও আইডি কার্ড দেখিয়ে তাকে চাকরি হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে নগদ, বিকাশ ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

এমনকি চাকরির বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে সবুজ কভারের একটি ভুয়া হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষরও নেওয়া হতো। পরে নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র ও আইডি কার্ড নিয়ে ভূমি অফিসে গেলে সবুজ জানতে পারেন, সব কাগজপত্রই জাল।

এ ঘটনায় তিনি পল্লবী থানায় অভিযোগ করলে গত ১৫ আগস্ট মামলা নম্বর-৩৫ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৬৪/৪৬৬/৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি ওয়ারী বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে পল্লবী থানার আধুনিক রোড এলাকা থেকে চক্রের সদস্য বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ডিবি।

এরই ধারাবাহিকতায় নিশীথ সাহা, মিজানুর রহমান ও রিংকু হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি আরও জানায়, একই চক্রের মাধ্যমে আরও তিনজন প্রতারিত হয়েছেন। তারা হলেন নীলফামারীর ডোমার থানার শাহারিয়ার ইসলাম ফজল, বগুড়া সদর থানার মো. আমানুল ইসলাম এবং টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার মো. আসরাফুল ইসলাম।

পুলিশের দাবি, চক্রটি ভূমি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুয়া নিয়োগপত্র সরবরাহ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার নিশীথ সাহার বাড়ি নাটোরের লালপুর থানার হাপানিয়া এলাকায়, মিজানুর রহমানের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার দক্ষিণ রফিয়াদি এলাকায় এবং রিংকু হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট থানার গৌড়শিপুর এলাকায়। তাদের বর্তমান ঠিকানা ঢাকার সাভার ও বাড্ডা এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগ : ডিবি পুলিশ সরকারি চাকরি

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।

গ্রেপ্তাররা হলেন নিশীথ সাহা ওরফে রুবেল ওরফে রুমেল ওরফে সুমন (৩২), মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৫০) ও মো. রিংকু হোসেন (৩২)।

ডিবি জানায়, নিশীথ নিজেকে বিভিন্ন সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের পিএস এবং মিজানুর রহমান নিজেকে ওই মন্ত্রণালয়ের অডিট অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। তারা মো. সবুজ সরকার (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

চক্রটি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য সবুজকে কর্মস্থল দেখানোর কথা বলে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চতুর্থ তলায় নিয়ে যায়। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র ও আইডি কার্ড দেখিয়ে তাকে চাকরি হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে নগদ, বিকাশ ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

এমনকি চাকরির বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে সবুজ কভারের একটি ভুয়া হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষরও নেওয়া হতো। পরে নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র ও আইডি কার্ড নিয়ে ভূমি অফিসে গেলে সবুজ জানতে পারেন, সব কাগজপত্রই জাল।

এ ঘটনায় তিনি পল্লবী থানায় অভিযোগ করলে গত ১৫ আগস্ট মামলা নম্বর-৩৫ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৬৪/৪৬৬/৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি ওয়ারী বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে পল্লবী থানার আধুনিক রোড এলাকা থেকে চক্রের সদস্য বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ডিবি।

এরই ধারাবাহিকতায় নিশীথ সাহা, মিজানুর রহমান ও রিংকু হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি আরও জানায়, একই চক্রের মাধ্যমে আরও তিনজন প্রতারিত হয়েছেন। তারা হলেন নীলফামারীর ডোমার থানার শাহারিয়ার ইসলাম ফজল, বগুড়া সদর থানার মো. আমানুল ইসলাম এবং টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার মো. আসরাফুল ইসলাম।

পুলিশের দাবি, চক্রটি ভূমি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুয়া নিয়োগপত্র সরবরাহ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার নিশীথ সাহার বাড়ি নাটোরের লালপুর থানার হাপানিয়া এলাকায়, মিজানুর রহমানের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার দক্ষিণ রফিয়াদি এলাকায় এবং রিংকু হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট থানার গৌড়শিপুর এলাকায়। তাদের বর্তমান ঠিকানা ঢাকার সাভার ও বাড্ডা এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ