উত্তর কোরিয়া তাদের নৌবাহিনীতে নতুন একটি বহুমুখী ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক সক্ষমতায় সজ্জিত করার পরিকল্পনা নির্ধারিত কর্মপথেই এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, মঙ্গলবার নাম্পো বন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের নতুন ডেস্ট্রয়ারটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন অপারেশনাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে।
৫ হাজার টন শ্রেণির এই ডেস্ট্রয়ারটি গত বছরের এপ্রিলে উন্মোচিত দুটি যুদ্ধজাহাজের একটি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিম জং উন এটিকে উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী আধুনিকায়ন এবং সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নৌবাহিনী এখন কৌশলগত সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং এর পারমাণবিক অস্ত্রায়ন পরিকল্পনা নির্ধারিত পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। কিমের দাবি, ‘চোয়ে হিয়ন’ উন্নত যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন একটি জাহাজ, যা উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর জন্য নতুন যুগের সূচনা করবে।
এ সময় তিনি আরও জানান, শিগগিরই আরও একটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি আগামী কয়েক বছরে ১০ হাজার টন শ্রেণির একাধিক কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করে নৌবহরে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কিম জং উন বলেন, বৃহৎ আকারের যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা এবং সম্প্রসারিত নৌবহরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে দেশটির সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নৌবাহিনীর পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।