ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বন্দি হত্যা ও লাশ গুমের বর্ণনা

ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বন্দি হত্যা ও লাশ গুমের বর্ণনা
ফলো করুন

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তিনি দাবি করেছেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‍্যাবের অভিযানের সময় বন্দিদের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা এবং লাশ গুম করা হতো।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আব্বাস মল্লিক।

সাক্ষ্যে তিনি দাবি করেন, অভিযানের দিন বিকেলে সাদা পোশাকে র‍্যাবের দুই সদস্য স্থানীয় দোকানিদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ এবং আলো নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে র‍্যাবের কয়েকটি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে আসত। সেখান থেকে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের ট্রলারে তোলা হতো।

আব্বাস মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদীর গভীর পানির দিকে যেত। সেখানে ট্রলারের গতি কমিয়ে বন্দিদের বের করে আনা হতো। তার দাবি, ট্রলারে থাকা র‍্যাব সদস্যরা বন্দিদের চেপে ধরে রাখতেন এবং জিয়াউল আহসান নিজে তাদের মাথা, কান বা বুকে গুলি করতেন।

সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক আরও দাবি করেন, হত্যার পর লাশের সঙ্গে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, কিছু বন্দিকে সুন্দরবন এলাকায় নিয়ে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাগুলোকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। পরে সাংবাদিকদের ডেকে লাশ থানায় হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

আব্বাস মল্লিক জানান, এসব অভিযান শেষে বরফ মিলে ফিরে আসার পর মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হতো।

সাক্ষ্যে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তার দাবি, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় কয়েকজন বোট মালিক তাকে সতর্ক করেছিলেন যে, র‍্যাব তার ওপর ক্ষুব্ধ।

আব্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের মাঝামাঝি একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। তাকে ফোন করে ‘জিয়া স্যার’ বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন বলে জানানো হয়েছিল। ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে ট্রাইব্যুনালে জানান আব্বাস।

ভাইয়ের সন্ধানে খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন র‍্যাব কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে দাবি করেন তিনি। পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে সেখানে জিয়াউল আহসান ও র‍্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পুলিশ রাজি হয়নি বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আব্বাস।

সাক্ষ্য শেষে কাঠগড়ায় থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করেন আব্বাস মল্লিক। একই সঙ্গে তিনি তার নিখোঁজ ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের ঘটনায় বিচার দাবি করেন।

ট্যাগ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুম

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বন্দি হত্যা ও লাশ গুমের বর্ণনা

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তিনি দাবি করেছেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‍্যাবের অভিযানের সময় বন্দিদের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা এবং লাশ গুম করা হতো।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আব্বাস মল্লিক।

সাক্ষ্যে তিনি দাবি করেন, অভিযানের দিন বিকেলে সাদা পোশাকে র‍্যাবের দুই সদস্য স্থানীয় দোকানিদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ এবং আলো নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে র‍্যাবের কয়েকটি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে আসত। সেখান থেকে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের ট্রলারে তোলা হতো।

আব্বাস মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদীর গভীর পানির দিকে যেত। সেখানে ট্রলারের গতি কমিয়ে বন্দিদের বের করে আনা হতো। তার দাবি, ট্রলারে থাকা র‍্যাব সদস্যরা বন্দিদের চেপে ধরে রাখতেন এবং জিয়াউল আহসান নিজে তাদের মাথা, কান বা বুকে গুলি করতেন।

সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক আরও দাবি করেন, হত্যার পর লাশের সঙ্গে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেওয়া হতো বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, কিছু বন্দিকে সুন্দরবন এলাকায় নিয়ে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাগুলোকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। পরে সাংবাদিকদের ডেকে লাশ থানায় হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

আব্বাস মল্লিক জানান, এসব অভিযান শেষে বরফ মিলে ফিরে আসার পর মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হতো।

সাক্ষ্যে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তার দাবি, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় কয়েকজন বোট মালিক তাকে সতর্ক করেছিলেন যে, র‍্যাব তার ওপর ক্ষুব্ধ।

আব্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের মাঝামাঝি একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। তাকে ফোন করে ‘জিয়া স্যার’ বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন বলে জানানো হয়েছিল। ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে ট্রাইব্যুনালে জানান আব্বাস।

ভাইয়ের সন্ধানে খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন র‍্যাব কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে দাবি করেন তিনি। পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে সেখানে জিয়াউল আহসান ও র‍্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পুলিশ রাজি হয়নি বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আব্বাস।

সাক্ষ্য শেষে কাঠগড়ায় থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করেন আব্বাস মল্লিক। একই সঙ্গে তিনি তার নিখোঁজ ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের ঘটনায় বিচার দাবি করেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ