জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি।
অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ২৩ মিনিট পর নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দুই মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে ফুটে উঠেছে তার দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা স্মৃতি।
ভিডিওটির ক্যাপশনে মেসি শুধু লিখেছেন, ‘এআর’ এবং সঙ্গে দিয়েছেন একটি লাল ভালোবাসার ইমোজি। তবে এই ছোট্ট বার্তাই ভক্ত ও ফুটবল বিশ্বের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ তৈরি করে।
ভিডিও প্রকাশের পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলার, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও ভক্তরা মেসিকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা দিতে শুরু করেন।
স্প্যানিশ গায়িকা সোলেদাদ পাস্তোরুত্তির জনপ্রিয় গান ‘ব্রিন্দিস’-এর সুর দিয়ে শুরু হওয়া ভিডিওতে মেসির ফুটবল জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। ছোটবেলায় বল পায়ে ছুটে চলা থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মঞ্চ পর্যন্ত তার সংগ্রাম, সাফল্য, হতাশা ও আবেগের মুহূর্তগুলো স্থান পেয়েছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকেও। ২০১০ বিশ্বকাপে কোচ ম্যারাডোনার সামনে তরুণ মেসির দাঁড়িয়ে থাকা এবং তার কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের পুরোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে।
এরপর উঠে এসেছে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের মুহূর্ত। সেই হারের পর মেসির হতাশা ও কষ্টও ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আসে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় সাফল্যের অধ্যায়। কোপা আমেরিকা জয়ের মুহূর্ত, ট্রফি হাতে মেসির উচ্ছ্বাস এবং আগের ব্যর্থতার পর তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়াগুলোও ভিডিওতে জায়গা পেয়েছে।
২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর মেসির কান্নার দৃশ্যও ছিল ভিডিওতে। সেখানে একজন বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি দেশের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেওয়া এক আবেগপ্রবণ ফুটবলারকেও দেখা গেছে।
ভিডিওর শেষ অংশে রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। স্বপ্ন, লড়াই ও প্রত্যাশার পর ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের মুহূর্ত দিয়ে শেষ হয়েছে সেই দুই মিনিটের গল্প।
স্বল্প সময়ের এই ভিডিওতে মেসির পুরো ফুটবল যাত্রার এক আবেগঘন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। শৈশবের স্বপ্ন থেকে শুরু করে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে ওঠার গল্পই যেন ফুটে উঠেছে এতে।
মন্তব্যসমূহ