হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর সীমিত আকারে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান রাডার ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। এসব সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে নিয়মিত ছোট পরিসরে অভিযান চালানোর একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেন তেলবাহী জাহাজ, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ও সামরিক বিমানের জন্য হুমকি তৈরি করতে না পারে। এ কারণে ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় প্রয়োজন অনুযায়ী হামলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করছেন। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা তৈরির আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ধরনের অভিযানে অনুমোদন দেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সামনে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মেরামতের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ইরানের একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এতে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
সেন্টকম মনে করছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর সীমিত হামলা প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান এবং হোয়াইট হাউসকে অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে। ইরানের দাবি, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যসহ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
ইরানের পাল্টা হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
মন্তব্যসমূহ