ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় চরম নেতৃত্বের সংকটের মুখে পড়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় আয়োজিত ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এর ফলে সংগঠনের শীর্ষ ও প্রধান তিন পরিচিত মুখের কেউই বর্তমানে মুক্ত অবস্থায় রইলেন না। তবে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেও কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে তাদের বিকল্প কর্মপরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার বিকেল ৫টায় এই তেরঙ্গা যাত্রা কর্মসূচি শুরুর কথা ছিল। তবে কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেন্ট্রাল পার্কের প্রবেশদ্বারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে ওয়াটার ক্যানন, বিপুলসংখ্যক দিল্লি পুলিশ, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) মোতায়েন করা হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারির বিষয়টি উল্লেখ করে পুলিশ আগেই দীপকেকে এই কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার নোটিশ প্রদান করে।
বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঝান্ডেওয়ালের বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। সে সময় দীপকে পুলিশের এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ আরও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।
আটকের ঠিক কয়েক মিনিট আগে সিজেপির মিডিয়া সমন্বয়ক বিজয় এম জানান, পুলিশ যদি আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেকে প্রতিবাদস্থলে পৌঁছাতে না দেয়, তবে তারা সংগঠনের পূর্বপরিকল্পিত ‘প্ল্যান বি’ বাস্তবায়ন করবেন। এর আগে ১০ অক্টোবরের আন্দোলনের সময় দীপকেসহ অন্যান্য নেতাদের আটকের পর পূর্বে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অজিনক্যা শিন্ডেকে সাময়িক নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার দীপকের আটকের পর তাদের নতুন বিকল্প পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের সূচনা ঘটে। এর আগের দফায় গ্রেফতার হওয়া সিজেপির শীর্ষ দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে তিহার জেলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। প্রধান তিন নেতার অবর্তমানে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ রেখে সিজেপি কীভাবে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্যসমূহ