ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ডলারের দর বাড়ায় লাভে ফরওয়ার্ড বুকিং করা আমদানিকারকরা

ডলারের দর বাড়ায় লাভে ফরওয়ার্ড বুকিং করা আমদানিকারকরা
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দুই সপ্তাহ আগে ভবিষ্যৎ আমদানি দায় পরিশোধের জন্য ডলার ফরওয়ার্ড বুকিং করা আমদানিকারকেরা এখন প্রতি ডলারে এক টাকার বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩.৫০ টাকায় ওঠায় আগে থেকেই নির্ধারিত দরে ডলার নিশ্চিত করে রাখা ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন। 

বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডলারের বিনিময় হার ১২৩.৫০ টাকায় ওঠে, যা ১০ দিন আগে ছিল প্রায় ১২২ টাকা। ফলে যেসব আমদানিকারক ভবিষ্যতের দায় পরিশোধের জন্য কম দরে ডলার বুক করে রেখেছিলেন, বাজারদর বেড়ে যাওয়ার পর তারা তুলনামূলকভাবে লাভজনক অবস্থানে রয়েছেন। 

বড় পণ্য আমদানিকারক এবং দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে ফরওয়ার্ড চুক্তি করে। এ ব্যবস্থায় ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট তারিখে নির্ধারিত দরে ডলার কেনার চুক্তি করা হয়। ফলে ওই সময় বাজারে ডলারের দাম বেড়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানকে আগের নির্ধারিত দরেই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তবে বাজারদর কমে গেলে উল্টো সুবিধা পাওয়া যায় না; তখনো চুক্তিতে নির্ধারিত দামেই ডলার কিনতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনের বিপরীতে বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি কমাতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের ফরওয়ার্ড লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ফরওয়ার্ড বুকিং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত একটি ব্যবস্থা। আমদানিকারকেরা যখন মনে করেন ডলারের বিনিময় হার অস্থিতিশীল অথবা সামনে আরও বাড়তে পারে, তখন সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে ফরওয়ার্ড বুকিং করেন। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলো মূলত ভালো লেনদেনের ইতিহাস এবং দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং সম্পর্ক রয়েছে—এমন আমদানিকারকদের আবেদনই বেশি বিবেচনা করছে।

তার মতে, অতিরিক্ত ফরওয়ার্ড বুকিং ডলারের তাৎক্ষণিক বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে। তারপরও এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং আমদানিকারকদের এটি ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকও অতিরিক্ত ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের কারণে তাৎক্ষণিক বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছিল। 

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলীও মনে করেন, ফরওয়ার্ড বুকিং ব্যবসায়ীদের বিনিময় হার নিয়ে অনিশ্চয়তা কমায় এবং ব্যবসায় আস্থা বাড়াতে সহায়তা করে। একটি কার্যকর বৈদেশিক মুদ্রাবাজার গড়ে তুলতে এ ধরনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা যথাযথভাবে চালু রাখা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তিনি। এর আগেও তিনি ফরওয়ার্ড বুকিংকে বৈধ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। 

বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে তারা প্রায় এক মাস পর পরিশোধযোগ্য আমদানি ঋণপত্রের জন্য ডলার বুক করেছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে ডলারের বাজারদর আরও বাড়লেও তাদের চুক্তিতে নির্ধারিত হারেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

একটি শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে ৩০ দিনের জন্য ২ কোটি ডলার হেজ করেছে। ফরওয়ার্ড প্রিমিয়ামসহ প্রতি ডলারের কার্যকর দর নির্ধারিত হয়েছে ১২২.৬০ টাকা। বর্তমান বাজারদর ১২৩.৫০ টাকা বিবেচনায় নিলে প্রতি ডলারে তাদের প্রায় ৯০ পয়সা কম ব্যয় হবে।

আরেকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দুই সপ্তাহ আগে ডলারের বাজারদর ১২২ টাকার কাছাকাছি নেমে এলে এক মাস পরের একটি পরিশোধের জন্য ডলার বুক করে। ৩০ দিনের ফরওয়ার্ড প্রিমিয়াম যোগ করার পর তাদের কার্যকর বিনিময় হার দাঁড়ায় প্রতি ডলারে ১২২.৬০ টাকা। অর্থাৎ পরিশোধের সময় বাজারে ডলার ১২৪ বা ১২৫ টাকায় উঠলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ১২২.৬০ টাকার নির্ধারিত হারেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে ডলারের দাম ১২১ টাকায় নেমে গেলেও একই চুক্তির কারণে তাদের ১২২.৬০ টাকাই দিতে হবে।

আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এক মাস পরের পরিশোধের জন্য ১২২.২০ টাকা দরে ডলার বুক করেছিল। ফরওয়ার্ড প্রিমিয়াম যোগ করার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর খরচ দাঁড়ায় প্রতি ডলারে ১২২.৮০ টাকা।

ডলারের দর কমতে থাকার সময় ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের প্রবণতা বেড়েছিল। ২০ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের ভারিত গড় দর ছিল প্রায় ১২২.০৬ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে যারা ডলার বুক করেছিলেন, তাদের অনেকেই ১২৩ টাকার নিচে ভবিষ্যৎ দায় পরিশোধ নিশ্চিত করতে পেরেছেন। অথচ এক মাস আগে একই ধরনের পরিশোধে ডলারের দাম ১২৪ টাকার বেশি পড়েছিল বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজারে হস্তক্ষেপের ধরনও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। তাদের মতে, ডলারের দর কমার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও সক্রিয়ভাবে ডলার কিনলে বিনিময় হার এতটা নিচে নামত না। আবার অনেক ব্যাংকের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বৈদেশিক মুদ্রা থাকায় কম দামে ডলার বিক্রিতেও তারা অনাগ্রহী। কম দরে বিক্রি করলে আগে বেশি দামে কেনা ডলারে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ডলারের দরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। ৩০ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও ভারিত গড় দর ছিল ১২৩ টাকা। একই দিনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার তাৎক্ষণিক বাজারের রেফারেন্স রেট ছিল প্রায় ১২৩.১৪ টাকা। 

সরকারের বৈদেশিক মুদ্রায় বড় অঙ্কের দায় পরিশোধও ডলারের বাজারে চাপ তৈরি করছে। ব্যাংকারদের হিসাবে, চলতি মাসে সরকারের ১০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধের কথা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর আগের মাসে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সরকারি দায় পরিশোধের কারণে বাজারে ডলারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

ব্যাংকারদের ধারণা, চলতি সপ্তাহে সরকারের বাকি কিছু আমদানি ঋণপত্রের দায় পরিশোধ হয়ে গেলে বাজারে ডলারের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে বড় আমদানিকারকেরা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন ডলারের দাম আবার কমে কি না। দর আরও কমার প্রত্যাশা তৈরি হলে ভবিষ্যতের বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি সামলাতে ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের চাহিদাও নতুন করে বাড়তে পারে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

ট্যাগ : ডলার ডলারের দাম ফরওয়ার্ড বুকিং আমদানিকারক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ডলারের দর বাড়ায় লাভে ফরওয়ার্ড বুকিং করা আমদানিকারকরা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দুই সপ্তাহ আগে ভবিষ্যৎ আমদানি দায় পরিশোধের জন্য ডলার ফরওয়ার্ড বুকিং করা আমদানিকারকেরা এখন প্রতি ডলারে এক টাকার বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩.৫০ টাকায় ওঠায় আগে থেকেই নির্ধারিত দরে ডলার নিশ্চিত করে রাখা ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন। 

বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডলারের বিনিময় হার ১২৩.৫০ টাকায় ওঠে, যা ১০ দিন আগে ছিল প্রায় ১২২ টাকা। ফলে যেসব আমদানিকারক ভবিষ্যতের দায় পরিশোধের জন্য কম দরে ডলার বুক করে রেখেছিলেন, বাজারদর বেড়ে যাওয়ার পর তারা তুলনামূলকভাবে লাভজনক অবস্থানে রয়েছেন। 

বড় পণ্য আমদানিকারক এবং দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে ফরওয়ার্ড চুক্তি করে। এ ব্যবস্থায় ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট তারিখে নির্ধারিত দরে ডলার কেনার চুক্তি করা হয়। ফলে ওই সময় বাজারে ডলারের দাম বেড়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানকে আগের নির্ধারিত দরেই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তবে বাজারদর কমে গেলে উল্টো সুবিধা পাওয়া যায় না; তখনো চুক্তিতে নির্ধারিত দামেই ডলার কিনতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনের বিপরীতে বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি কমাতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের ফরওয়ার্ড লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ফরওয়ার্ড বুকিং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত একটি ব্যবস্থা। আমদানিকারকেরা যখন মনে করেন ডলারের বিনিময় হার অস্থিতিশীল অথবা সামনে আরও বাড়তে পারে, তখন সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে ফরওয়ার্ড বুকিং করেন। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলো মূলত ভালো লেনদেনের ইতিহাস এবং দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং সম্পর্ক রয়েছে—এমন আমদানিকারকদের আবেদনই বেশি বিবেচনা করছে।

তার মতে, অতিরিক্ত ফরওয়ার্ড বুকিং ডলারের তাৎক্ষণিক বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে। তারপরও এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং আমদানিকারকদের এটি ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকও অতিরিক্ত ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের কারণে তাৎক্ষণিক বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছিল। 

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলীও মনে করেন, ফরওয়ার্ড বুকিং ব্যবসায়ীদের বিনিময় হার নিয়ে অনিশ্চয়তা কমায় এবং ব্যবসায় আস্থা বাড়াতে সহায়তা করে। একটি কার্যকর বৈদেশিক মুদ্রাবাজার গড়ে তুলতে এ ধরনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা যথাযথভাবে চালু রাখা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তিনি। এর আগেও তিনি ফরওয়ার্ড বুকিংকে বৈধ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। 

বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে তারা প্রায় এক মাস পর পরিশোধযোগ্য আমদানি ঋণপত্রের জন্য ডলার বুক করেছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে ডলারের বাজারদর আরও বাড়লেও তাদের চুক্তিতে নির্ধারিত হারেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

একটি শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে ৩০ দিনের জন্য ২ কোটি ডলার হেজ করেছে। ফরওয়ার্ড প্রিমিয়ামসহ প্রতি ডলারের কার্যকর দর নির্ধারিত হয়েছে ১২২.৬০ টাকা। বর্তমান বাজারদর ১২৩.৫০ টাকা বিবেচনায় নিলে প্রতি ডলারে তাদের প্রায় ৯০ পয়সা কম ব্যয় হবে।

আরেকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দুই সপ্তাহ আগে ডলারের বাজারদর ১২২ টাকার কাছাকাছি নেমে এলে এক মাস পরের একটি পরিশোধের জন্য ডলার বুক করে। ৩০ দিনের ফরওয়ার্ড প্রিমিয়াম যোগ করার পর তাদের কার্যকর বিনিময় হার দাঁড়ায় প্রতি ডলারে ১২২.৬০ টাকা। অর্থাৎ পরিশোধের সময় বাজারে ডলার ১২৪ বা ১২৫ টাকায় উঠলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ১২২.৬০ টাকার নির্ধারিত হারেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে ডলারের দাম ১২১ টাকায় নেমে গেলেও একই চুক্তির কারণে তাদের ১২২.৬০ টাকাই দিতে হবে।

আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এক মাস পরের পরিশোধের জন্য ১২২.২০ টাকা দরে ডলার বুক করেছিল। ফরওয়ার্ড প্রিমিয়াম যোগ করার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর খরচ দাঁড়ায় প্রতি ডলারে ১২২.৮০ টাকা।

ডলারের দর কমতে থাকার সময় ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের প্রবণতা বেড়েছিল। ২০ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের ভারিত গড় দর ছিল প্রায় ১২২.০৬ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে যারা ডলার বুক করেছিলেন, তাদের অনেকেই ১২৩ টাকার নিচে ভবিষ্যৎ দায় পরিশোধ নিশ্চিত করতে পেরেছেন। অথচ এক মাস আগে একই ধরনের পরিশোধে ডলারের দাম ১২৪ টাকার বেশি পড়েছিল বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজারে হস্তক্ষেপের ধরনও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। তাদের মতে, ডলারের দর কমার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও সক্রিয়ভাবে ডলার কিনলে বিনিময় হার এতটা নিচে নামত না। আবার অনেক ব্যাংকের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বৈদেশিক মুদ্রা থাকায় কম দামে ডলার বিক্রিতেও তারা অনাগ্রহী। কম দরে বিক্রি করলে আগে বেশি দামে কেনা ডলারে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ডলারের দরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। ৩০ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও ভারিত গড় দর ছিল ১২৩ টাকা। একই দিনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার তাৎক্ষণিক বাজারের রেফারেন্স রেট ছিল প্রায় ১২৩.১৪ টাকা। 

সরকারের বৈদেশিক মুদ্রায় বড় অঙ্কের দায় পরিশোধও ডলারের বাজারে চাপ তৈরি করছে। ব্যাংকারদের হিসাবে, চলতি মাসে সরকারের ১০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধের কথা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর আগের মাসে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সরকারি দায় পরিশোধের কারণে বাজারে ডলারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

ব্যাংকারদের ধারণা, চলতি সপ্তাহে সরকারের বাকি কিছু আমদানি ঋণপত্রের দায় পরিশোধ হয়ে গেলে বাজারে ডলারের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে বড় আমদানিকারকেরা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন ডলারের দাম আবার কমে কি না। দর আরও কমার প্রত্যাশা তৈরি হলে ভবিষ্যতের বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি সামলাতে ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের চাহিদাও নতুন করে বাড়তে পারে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ