উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে ২৬৭ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ২৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে বড় ধরনের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) উত্তর সাইপ্রাসের কিরেনিয়া বা গিরনে বন্দর থেকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় মেরসিনের তাশুজু বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল ক্যাটামারান ধরনের ফেরিটি। বন্দর ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই উপকূল থেকে প্রায় চার মাইল দূরে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। পরে সেটি উল্টে যায়।
উত্তর সাইপ্রাসের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ফেরিটিতে মোট ২৬৭ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৫৯ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু সদস্য। সর্বশেষ হিসাবে ২৩৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ২৩ জনের সন্ধান চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করার পর এর ক্যাপ্টেন বিপদসংকেত পাঠান। খবর পাওয়ার প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দুর্ঘটনাস্থলে কোস্টগার্ডের পাঁচটি জাহাজ ও দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য তুরস্কের নৌবাহিনীও ছয়টি নৌযান মোতায়েন করেছে।
টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে ফেরিটিকে পানিতে উল্টে থাকতে এবং লাইফ জ্যাকেট পরা কয়েকজন যাত্রীকে উল্টে যাওয়া ফেরির ওপর অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আশপাশে থাকা বেসামরিক নৌযানও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। উদ্ধার করা যাত্রীদের গিরনে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উত্তর সাইপ্রাসের গণপূর্ত ও পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ফেরি দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, বন্দর ছাড়ার পর অজ্ঞাত কারণে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী উস্তেল জানিয়েছেন, প্রথম একটি ঢেউয়ের পর ক্যাপ্টেন ফেরিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে পানি ঢুকে ফেরিটি বিপর্যস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ আনুষ্ঠানিক তদন্তে নির্ধারণ করা হবে।
ঘটনার পর উত্তর সাইপ্রাসে একটি সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ