ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গুমের অভিযোগে স্বাধীন তদন্ত চায় ১১ দলীয় ঐক্য, স্পিকারকে স্মারকলিপি

গুমের অভিযোগে স্বাধীন তদন্ত চায় ১১ দলীয় ঐক্য, স্পিকারকে স্মারকলিপি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন গুমবিরোধী কর্মসূচির প্রতিনিধিরা। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাংলামোটর থেকে ‘বাংলাদেশ গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে পদযাত্রা শুরু হয়। পরে সংসদ ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গুমবিরোধী আইনের বর্তমান কাঠামো নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ কার্যকর না রেখে নতুন আইনে তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, যেসব সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠতে পারে, একই ব্যবস্থার অধীন সংস্থাকে সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ কারণে গুমের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল। সেখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার ওই অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দেয়নি এবং নতুন আইনের উদ্যোগ নেয়। প্রস্তাবিত আইনে গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে রাখা হলেও তদন্তের দায়িত্ব পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থার হাতে থাকার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিনও সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তারা তাদের দাবি ও উদ্বেগগুলো স্পিকারের সামনে তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্পিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং নিজের অবস্থান থেকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

হাসিনুর রহমান নতুন গুম প্রতিরোধ আইনের প্রস্তাবিত তদন্তব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে হওয়া প্রয়োজন, যার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে না।

এদিকে সরকার বলছে, নতুন আইনের মাধ্যমে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় অনুমোদন দেয়। পরে ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

গুমের অভিযোগে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো সংস্থার সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই সংস্থা বা তার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব না দিয়ে স্বাধীন তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

রোববারের সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্য এবং মানবাধিকারকর্মীরা সংহতি জানান।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, অতীতের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং ভবিষ্যতে গুম বন্ধে কার্যকর ও স্বাধীন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান দাবি।

ট্যাগ : ১১ দলীয় ঐক্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গুম

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


গুমের অভিযোগে স্বাধীন তদন্ত চায় ১১ দলীয় ঐক্য, স্পিকারকে স্মারকলিপি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন গুমবিরোধী কর্মসূচির প্রতিনিধিরা। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাংলামোটর থেকে ‘বাংলাদেশ গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে পদযাত্রা শুরু হয়। পরে সংসদ ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গুমবিরোধী আইনের বর্তমান কাঠামো নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ কার্যকর না রেখে নতুন আইনে তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, যেসব সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠতে পারে, একই ব্যবস্থার অধীন সংস্থাকে সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ কারণে গুমের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল। সেখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার ওই অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দেয়নি এবং নতুন আইনের উদ্যোগ নেয়। প্রস্তাবিত আইনে গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে রাখা হলেও তদন্তের দায়িত্ব পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থার হাতে থাকার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিনও সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তারা তাদের দাবি ও উদ্বেগগুলো স্পিকারের সামনে তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্পিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং নিজের অবস্থান থেকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

হাসিনুর রহমান নতুন গুম প্রতিরোধ আইনের প্রস্তাবিত তদন্তব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে হওয়া প্রয়োজন, যার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে না।

এদিকে সরকার বলছে, নতুন আইনের মাধ্যমে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় অনুমোদন দেয়। পরে ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

গুমের অভিযোগে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো সংস্থার সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই সংস্থা বা তার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব না দিয়ে স্বাধীন তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

রোববারের সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্য এবং মানবাধিকারকর্মীরা সংহতি জানান।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, অতীতের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং ভবিষ্যতে গুম বন্ধে কার্যকর ও স্বাধীন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান দাবি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ