ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সাগর-রুনি হত্যায় নতুন সূত্রের খবরে ট্রাইব্যুনালে ছেলে মেঘ

সাগর-রুনি হত্যায় নতুন সূত্রের খবরে ট্রাইব্যুনালে ছেলে মেঘ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন ব্যক্তির সম্ভাব্য যোগসূত্র পাওয়ার কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানানোর পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দম্পতির একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান মেঘ। তার সঙ্গে ছিলেন মামলার বাদী ও মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলী রোমান। তারা চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহার সঙ্গে কথা বলেন।

সাক্ষাতের সময় নওশের আলী রোমান সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা জানান।

জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, চাইলে অভিযোগ জমা দেওয়া যেতে পারে। তবে সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা আইনগতভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

এর আগে একই দিন দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে না। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইয়ের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সের হাতে।

তবে অন্য একটি মামলার তদন্তের সময় কল রেকর্ডসহ কিছু তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন ব্যক্তির সম্ভাব্য যোগসূত্রের একটি সূত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না। পাওয়া তথ্যগুলো আরও যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী অনুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইকে দেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পিবিআই। দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত দলের কাছে এখনো ওই ধরনের কোনো তথ্য নেই।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানিয়েছেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড একটি ব্যক্তিগত হত্যা মামলা হিসেবে সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতের বিচার্য বিষয়। ফলে নতুন কোনো সূত্র পাওয়া গেলেও মূল মামলার তদন্ত ও বিচার প্রচলিত আদালতের কাঠামোর মধ্যেই এগোবে।

এদিকে দীর্ঘ ১৪ বছরেও আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পিবিআই তা দিতে পারেনি। আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এ নিয়ে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ১২৯ বার পেছাল।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। পরদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

দুই মাসের বেশি সময়েও হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ২০১২ সালের এপ্রিলে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে পিবিআই প্রধানের নেতৃত্বে সেই টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্ত করছে।

হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পরও কারা, কেন সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে হত্যা করেছিলেন, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মেলেনি। নতুন সূত্রের দাবি তাই মামলাটিতে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্তে যাচাই ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততাকে নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ট্যাগ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর সাগর-রুনি হত্যা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সাগর-রুনি হত্যায় নতুন সূত্রের খবরে ট্রাইব্যুনালে ছেলে মেঘ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন ব্যক্তির সম্ভাব্য যোগসূত্র পাওয়ার কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানানোর পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দম্পতির একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান মেঘ। তার সঙ্গে ছিলেন মামলার বাদী ও মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলী রোমান। তারা চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহার সঙ্গে কথা বলেন।

সাক্ষাতের সময় নওশের আলী রোমান সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা জানান।

জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, চাইলে অভিযোগ জমা দেওয়া যেতে পারে। তবে সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা আইনগতভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

এর আগে একই দিন দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে না। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইয়ের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সের হাতে।

তবে অন্য একটি মামলার তদন্তের সময় কল রেকর্ডসহ কিছু তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন ব্যক্তির সম্ভাব্য যোগসূত্রের একটি সূত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না। পাওয়া তথ্যগুলো আরও যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী অনুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইকে দেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পিবিআই। দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত দলের কাছে এখনো ওই ধরনের কোনো তথ্য নেই।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানিয়েছেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড একটি ব্যক্তিগত হত্যা মামলা হিসেবে সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতের বিচার্য বিষয়। ফলে নতুন কোনো সূত্র পাওয়া গেলেও মূল মামলার তদন্ত ও বিচার প্রচলিত আদালতের কাঠামোর মধ্যেই এগোবে।

এদিকে দীর্ঘ ১৪ বছরেও আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পিবিআই তা দিতে পারেনি। আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এ নিয়ে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ১২৯ বার পেছাল।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। পরদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

দুই মাসের বেশি সময়েও হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ২০১২ সালের এপ্রিলে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে পিবিআই প্রধানের নেতৃত্বে সেই টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্ত করছে।

হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পরও কারা, কেন সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে হত্যা করেছিলেন, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মেলেনি। নতুন সূত্রের দাবি তাই মামলাটিতে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্তে যাচাই ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততাকে নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ