ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

খুলনায় খুনোখুনি বন্ধে পুলিশকে এক মাসের সময়সীমা

খুলনায় খুনোখুনি বন্ধে পুলিশকে এক মাসের সময়সীমা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতিতে ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় খুলনা অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পরিস্থিতির কারণ এবং তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, খুলনার পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান ও ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানের দেওয়া ব্যাখ্যায় নীতিনির্ধারকরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। পরে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত ও দৃশ্যমান উন্নতি আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় খুলনা অঞ্চলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ, অপরাধীদের তালিকা হালনাগাদ এবং পুলিশের টহল বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়িয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে খুলনা রেঞ্জে ৮৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে খুলনা মহানগর এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৯টি। আর জুলাই মাসে খুলনা মহানগরে ৩টি এবং খুলনা রেঞ্জে ২৯টি হত্যার মামলা হয়েছে।

সমকালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে খুলনা মহানগর এলাকায় এখন পর্যন্ত ৯৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২৯টি।

নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়েও সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৬ হাজার ১৬৩টি মামলা হয়েছে। এর বিপরীতে বছরের প্রথম তিন মাসে এ ধরনের মামলা হয়েছিল ৩ হাজার ৯৪৭টি। অর্থাৎ প্রথম তিন মাসের তুলনায় এপ্রিল-জুনে মামলা বেড়েছে ২ হাজার ২৬১টি।

সভায় এসব মামলার যথাযথ তদন্ত, দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং তদন্তের মান বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত জোরদার, পুলিশ আক্রান্তের ঘটনায় তদারকি বাড়ানো এবং মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পৃথক ইউনিট গঠন, উগ্রবাদ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং পুলিশের যানবাহন সংকট নিরসন নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে গুজব বা অপপ্রচার ছড়িয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফরকেন্দ্রিক প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতা কমানোর বিষয়টিও উঠে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে এ ধরনের আয়োজন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলা, মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত, বিচার এবং সাজা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, সব মহানগর পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগ : খুলনা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


খুলনায় খুনোখুনি বন্ধে পুলিশকে এক মাসের সময়সীমা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতিতে ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় খুলনা অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পরিস্থিতির কারণ এবং তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, খুলনার পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান ও ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানের দেওয়া ব্যাখ্যায় নীতিনির্ধারকরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। পরে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত ও দৃশ্যমান উন্নতি আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় খুলনা অঞ্চলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ, অপরাধীদের তালিকা হালনাগাদ এবং পুলিশের টহল বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়িয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে খুলনা রেঞ্জে ৮৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে খুলনা মহানগর এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৯টি। আর জুলাই মাসে খুলনা মহানগরে ৩টি এবং খুলনা রেঞ্জে ২৯টি হত্যার মামলা হয়েছে।

সমকালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে খুলনা মহানগর এলাকায় এখন পর্যন্ত ৯৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২৯টি।

নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়েও সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৬ হাজার ১৬৩টি মামলা হয়েছে। এর বিপরীতে বছরের প্রথম তিন মাসে এ ধরনের মামলা হয়েছিল ৩ হাজার ৯৪৭টি। অর্থাৎ প্রথম তিন মাসের তুলনায় এপ্রিল-জুনে মামলা বেড়েছে ২ হাজার ২৬১টি।

সভায় এসব মামলার যথাযথ তদন্ত, দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং তদন্তের মান বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত জোরদার, পুলিশ আক্রান্তের ঘটনায় তদারকি বাড়ানো এবং মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পৃথক ইউনিট গঠন, উগ্রবাদ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং পুলিশের যানবাহন সংকট নিরসন নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে গুজব বা অপপ্রচার ছড়িয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফরকেন্দ্রিক প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতা কমানোর বিষয়টিও উঠে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে এ ধরনের আয়োজন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলা, মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত, বিচার এবং সাজা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, সব মহানগর পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ