দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের গোন্ডা জেলার একদল বাসিন্দা। বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ‘হনুমান চালিসা’ নিয়ে হাজির হয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে ধর্মীয় গ্রন্থে হাত রেখে দিনে কত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, তা সত্যি করে বলার দাবি জানান তারা।
ঘটনাটি শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোন্ডার কাটরা বাজার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন গ্রামবাসী উপকেন্দ্রের কনিষ্ঠ প্রকৌশলী আদর্শ কুমার ওঝাকে ঘিরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন করছেন। পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণও করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ থাকলেও তাদের এলাকার ফিডারে নিয়মিত সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, প্রায় ছয় মাস ধরে দিনে দুই ঘণ্টারও কম সময় নিয়মিত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন তারা।
বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রকৌশলীকে ‘হনুমান চালিসা’র ওপর হাত রেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঠিক কত ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে, তা প্রকাশ্যে জানানোর দাবি করেন। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি সামনে আনার চেষ্টা করেন তারা।
তবে ঘটনার পর কনিষ্ঠ প্রকৌশলী আদর্শ কুমার ওঝা প্রায় এক ডজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন।
তার অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে, কর্মকর্তাদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছে এবং সরকারি নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।
কাটরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ পাঠক জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও পুলিশের নজরে এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত অভিযোগও গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে স্থানীয় বিধায়ক বাবন সিং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি অপেক্ষমাণ ৫ এমভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের আশা, ট্রান্সফরমারটি চালু হলে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
দীর্ঘ লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং ধর্মীয় গ্রন্থ সামনে রেখে কর্মকর্তার কাছে জবাব চাওয়ার অভিনব পদ্ধতির কারণে ঘটনাটি ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মন্তব্যসমূহ