ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৭৩৪, নিখোঁজ ২,৪৯৮

নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৭৩৪, নিখোঁজ ২,৪৯৮
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) রোববার সকাল ৯টার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখনো ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। 

এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত আটটি জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ২৫৯টি, নাওয়ালপরাসি পূর্বে ১৮৪টি, নাওয়ালপরাসি পশ্চিমে ৮২টি, গোর্খায় ৫৮টি, নুওয়াকোটে ৫২টি, ধাদিংয়ে ৫০টি, তানাহুনে ৩৬টি এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। 

নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া রাসুয়ায় ৫৬২ জন, নুওয়াকোটে ১১৫ জন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৫ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। 

তবে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার তথ্যটি মোট নিখোঁজের সংখ্যা নয়। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের পৃথক হিসাবে, বন্যার পর ২৬১ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৩২০ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের মধ্যে ১৬৭ জন ভারতীয়, ৪০ জন চীনা, ৮ জন ইউক্রেনীয়, ৪ জন জার্মান, ৪ জন মাল্টার, ৩ জন মার্কিন এবং বিভিন্ন দেশের আরও নাগরিক রয়েছেন। 

ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন উদ্ধারকারীরা।

এনডিআরআরএমএর হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য কাজ করছেন। 

বন্যার পর নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো নেপালের বিভিন্ন ভাটির জেলায় গিয়ে পৌঁছাচ্ছে। ফলে মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করাও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে।

এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হলেও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

ট্যাগ : নেপাল বন্যা আকস্মিক বন্যা হিমবাহ ধস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৭৩৪, নিখোঁজ ২,৪৯৮

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) রোববার সকাল ৯টার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখনো ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। 

এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত আটটি জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ২৫৯টি, নাওয়ালপরাসি পূর্বে ১৮৪টি, নাওয়ালপরাসি পশ্চিমে ৮২টি, গোর্খায় ৫৮টি, নুওয়াকোটে ৫২টি, ধাদিংয়ে ৫০টি, তানাহুনে ৩৬টি এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। 

নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া রাসুয়ায় ৫৬২ জন, নুওয়াকোটে ১১৫ জন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৫ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। 

তবে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকার তথ্যটি মোট নিখোঁজের সংখ্যা নয়। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের পৃথক হিসাবে, বন্যার পর ২৬১ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৩২০ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের মধ্যে ১৬৭ জন ভারতীয়, ৪০ জন চীনা, ৮ জন ইউক্রেনীয়, ৪ জন জার্মান, ৪ জন মাল্টার, ৩ জন মার্কিন এবং বিভিন্ন দেশের আরও নাগরিক রয়েছেন। 

ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন উদ্ধারকারীরা।

এনডিআরআরএমএর হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য কাজ করছেন। 

বন্যার পর নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো নেপালের বিভিন্ন ভাটির জেলায় গিয়ে পৌঁছাচ্ছে। ফলে মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করাও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে।

এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হলেও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ