ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেপালের ব্যারিয়ার লেকে জমছে ৫০ লাখ ঘনমিটার পানিr

নেপালের ব্যারিয়ার লেকে জমছে ৫০ লাখ ঘনমিটার পানিr
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নেপালের পার্বত্য এলাকায় বড় একটি ব্যারিয়ার লেক বা নদীর স্বাভাবিক প্রভাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। হ্রদটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আগামী কয়েক দিনে আরও পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করার কারণে এটির ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ, এই সময়ে পানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫০ লাখ ঘনমিটার। এতে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি)। এ তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্লোবাল টাইমস।

হ্রদটি নেপালের ছোটচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে তৈরি হয়েছে। হ্রদের পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা বোঝার জন্য বন্যার বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে সিমুলেশন চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে জরুরি উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

ছোটচেন ও পুরেপু নদীর উৎপত্তি তিব্বতে। নদী দুটি একত্রিত হওয়ার পর নেপালে প্রবেশ করেছে। নেপালে এই নদীটি ভোতে কোশি নামে পরিচিত। ভোতে কোশি নদী ত্রিশূলী নদীর ওপরের দিকের প্রধান উপনদী।

চীনের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মাত্র এক দিন আগেই নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই বন্যায় মানুষ নিহত হয়েছেন, অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশি নদীতে হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোত তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বন্যার পানি নদীর নিম্নপ্রবাহ ধরে ত্রিশূলী নদীর দিকে চলে যায়।

নেপালে বন্যায় ভেসে যাওয়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে। নদীর নিম্নপ্রবাহের কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও বন্যার ঝুঁকি পর্যালোচনা করতে কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়কে চলাচল সীমিত করেছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই নতুন করে তৈরি হওয়া ব্যারেজ হ্রদটি উদ্ধার তৎপরতার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হ্রদটির বাঁধ ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে নদীটির আশপাশের জনবসতি ও অবকাঠামো নতুন করে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা হ্রদটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি পানির প্রবাহ ও নদীর পরিস্থিতি নিয়ে হাইড্রোলজিক্যাল বা জলবিদ্যাগত বিশ্লেষণ চালানো হবে। সম্ভাব্য জরুরি উদ্ধার অভিযান এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ : নেপাল চীন বন্যা ভূমিধস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


নেপালের ব্যারিয়ার লেকে জমছে ৫০ লাখ ঘনমিটার পানিr

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালের পার্বত্য এলাকায় বড় একটি ব্যারিয়ার লেক বা নদীর স্বাভাবিক প্রভাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। হ্রদটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আগামী কয়েক দিনে আরও পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করার কারণে এটির ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ, এই সময়ে পানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫০ লাখ ঘনমিটার। এতে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি)। এ তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্লোবাল টাইমস।

হ্রদটি নেপালের ছোটচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে তৈরি হয়েছে। হ্রদের পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা বোঝার জন্য বন্যার বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে সিমুলেশন চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে জরুরি উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

ছোটচেন ও পুরেপু নদীর উৎপত্তি তিব্বতে। নদী দুটি একত্রিত হওয়ার পর নেপালে প্রবেশ করেছে। নেপালে এই নদীটি ভোতে কোশি নামে পরিচিত। ভোতে কোশি নদী ত্রিশূলী নদীর ওপরের দিকের প্রধান উপনদী।

চীনের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মাত্র এক দিন আগেই নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই বন্যায় মানুষ নিহত হয়েছেন, অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশি নদীতে হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোত তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বন্যার পানি নদীর নিম্নপ্রবাহ ধরে ত্রিশূলী নদীর দিকে চলে যায়।

নেপালে বন্যায় ভেসে যাওয়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে। নদীর নিম্নপ্রবাহের কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও বন্যার ঝুঁকি পর্যালোচনা করতে কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়কে চলাচল সীমিত করেছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই নতুন করে তৈরি হওয়া ব্যারেজ হ্রদটি উদ্ধার তৎপরতার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হ্রদটির বাঁধ ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে নদীটির আশপাশের জনবসতি ও অবকাঠামো নতুন করে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা হ্রদটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি পানির প্রবাহ ও নদীর পরিস্থিতি নিয়ে হাইড্রোলজিক্যাল বা জলবিদ্যাগত বিশ্লেষণ চালানো হবে। সম্ভাব্য জরুরি উদ্ধার অভিযান এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ