ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৩৫৯

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৩৫৯
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৩৫৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো শত শত মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত নেপাল পুলিশের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ৩৩২। ওই সময় চিতওয়ানে ১২১, নওয়ালপরাসি পূর্বে ৭৪, ধাদিঙ ও গোর্খায় ২৯ জন করে, নুয়াকোটে ২৮, তানাহুনে ১৯, রাসুয়ায় ১৭ এবং নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও মরদেহ পাওয়া যায় এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা প্রবল পানি, বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত রাসুয়া এবং আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরে সেই ঢল ভোটেকোশি থেকে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী ব্যবস্থার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো ভেসে যায় বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে অন্তত ৮২৬ জন এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক বিদেশি নাগরিকও আছেন।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে হাসপাতাল এবং উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে তথ্য সংগ্রহ চলছে।

দুর্যোগের কারণ নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কারণে বন্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমবাহের বিশাল অংশের সঙ্গে বরফ ও পাথরের ধস পাহাড়ি নদীতে আছড়ে পড়ার পর ভয়াবহ জলস্রোত তৈরি হয়।

এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, অতিরিক্ত পানি জমে ওই হ্রদ ভেঙে গেলে ভাটির এলাকায় আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাই নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তালিকা হালনাগাদ করছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : নেপাল বন্যা তিব্বত

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৩৫৯

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৩৫৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো শত শত মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত নেপাল পুলিশের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ৩৩২। ওই সময় চিতওয়ানে ১২১, নওয়ালপরাসি পূর্বে ৭৪, ধাদিঙ ও গোর্খায় ২৯ জন করে, নুয়াকোটে ২৮, তানাহুনে ১৯, রাসুয়ায় ১৭ এবং নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও মরদেহ পাওয়া যায় এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা প্রবল পানি, বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত রাসুয়া এবং আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরে সেই ঢল ভোটেকোশি থেকে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী ব্যবস্থার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো ভেসে যায় বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে অন্তত ৮২৬ জন এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক বিদেশি নাগরিকও আছেন।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে হাসপাতাল এবং উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে তথ্য সংগ্রহ চলছে।

দুর্যোগের কারণ নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কারণে বন্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমবাহের বিশাল অংশের সঙ্গে বরফ ও পাথরের ধস পাহাড়ি নদীতে আছড়ে পড়ার পর ভয়াবহ জলস্রোত তৈরি হয়।

এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, অতিরিক্ত পানি জমে ওই হ্রদ ভেঙে গেলে ভাটির এলাকায় আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাই নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তালিকা হালনাগাদ করছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ