তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নেমে আসা আকস্মিক পানির ঢলে নেপালে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩৮৪ জন পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বন্যার পানিতে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নেপালের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে আসা পানির ঢলেই এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ডিআইজি অবিনারায়ণ কাফলের বরাতে নেপাল নিউজ জানিয়েছে, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গত অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে মোট ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় রয়েছেন।
এদিকে রসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের ২৬ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সাত সদস্যেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে নেপাল সরকার। দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্য পাঠিয়েছে নেপাল সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গতদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ