ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ঈদে মিলাদুন্নবীতে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঈদে মিলাদুন্নবীতে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ফাইল ছবি
ফলো করুন

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তিনি মানুষকে তাওহিদের পথে আহ্বানের পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে রয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে মহানবী (সা.)-এর জীবনকে উত্তম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর জীবনে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার শিক্ষাও তাঁর জীবন থেকে পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মী হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান বিশ্বের নানা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তাঁর আদর্শ ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বত্র শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ঈদে মিলাদুন্নবীতে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তিনি মানুষকে তাওহিদের পথে আহ্বানের পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে রয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে মহানবী (সা.)-এর জীবনকে উত্তম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর জীবনে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার শিক্ষাও তাঁর জীবন থেকে পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মী হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান বিশ্বের নানা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তাঁর আদর্শ ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বত্র শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ