ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) নিজস্ব সোর্স নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেঞ্জের ৯৮টি থানায় বিভিন্ন পেশার মানুষকে পরিচয় গোপন রেখে সোর্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা সরাসরি এসপিদের কাছে অপরাধ ও পুলিশের সদস্যদের অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে গোপন তথ্য দেবেন। সোর্সদের সোর্সমানি থেকে সম্মানী দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন মঙ্গলবার টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে এসব নির্দেশনার কথা জানান।
তিনি বলেন, এসপিদের নিজস্ব সোর্সরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের পাশাপাশি পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধে জড়ালে তারও তথ্য দেবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ডিআইজি বলেন, অনেক পুলিশ সদস্য ডিউটির সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বাইরে ঘোরাফেরা করেন বা অন্যত্র চলে যান। এ কারণে আকস্মিক রোল কল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলার জন্য এসপিদের অ্যালার্ম প্যারেডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজিপি পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ইকবাল হোসেন জানান, গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ক্রাইম কনফারেন্সে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম পূরণ শতভাগ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকা রেঞ্জের সব জেলা মাদকমুক্ত করতে র্যালি, সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এসপিদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিশোর গ্যাং, শিশু হত্যা ও নির্যাতন, অপহরণ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে রেঞ্জ অফিস থেকে রিজার্ভ ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত বছরের পর বছর কেন আটকে আছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে এসপিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিআইজি ইকবাল হোসেন।
পুলিশের গ্রেড-১ পদ তিনটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করা হলে পুলিশের কাজের পরিধি ও সেবার মান আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপরাধ দমনে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিআইজি বলেন, থানার সেন্ট্রি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কারণ থানায় আসা মানুষের সঙ্গে প্রথমে তারই যোগাযোগ হয়। তাই সেন্ট্রিরা যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং সভা ও ওপেন হাউস ডের মাধ্যমে পুলিশের প্রতি মানুষের পূর্ণ আস্থা তৈরি করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ