জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী পরিবহনের বাসে যাত্রী উপস্থিত না থেকেও খাতা, শিট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন 'রিজার্ভ’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা খালি আসন থাকা সত্ত্বেও বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলে জানিয়েছেন পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়ায় পরিচালিত বাস রয়েছে। প্রতিদিন এসব বাসে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। আসনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।
সম্প্রতি বাসে বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন দখল করে রাখার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ বাসে নিজের উপস্থিতি না থাকলেও আগে থেকেই খাতা, শিট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন জিনিস আসনে রেখে সেটিকে নিজের জন্য সংরক্ষিত করে রাখছেন। ফলে পরে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা খালি আসন থাকলেও সেখানে বসতে পারছেন না।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “অনেকে বাস থেকে নামার সময় বাসে খাতা রেখে যান। যার কারণে আমরা পরে আগে এসেও বাসে সিট পাই না। অনেক দূর থেকে যাতায়াত করলেও বাধ্য হয়ে পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে যেতে হয়।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, “আমরা দ্রুতই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করব। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা থাকবে বাসে খাতা, কলম, বোতল বা অন্য কোনো কিছু রেখে আসন দখল করা যাবে না। এভাবে সিট রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। বাসের আসন বণ্টন হবে সম্পূর্ণভাবে আগে আসার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, যিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন, তিনিই আসনে বসার অগ্রাধিকার পাবেন।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবহন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়োজিত গাড়িচালক ও সহকারীরা বিষয়টি তদারকি করবেন। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করে অনিয়ম অব্যাহত রাখলে ভিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্যসমূহ