বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে ফি আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। এ-সংক্রান্ত একটি কৌশলগত পরিকল্পনার ধারা অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক কমিশন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’ সংক্রান্ত কৌশলগত পরিকল্পনার ৩ নম্বর ধারা অনুমোদন করেছে সংসদীয় কমিশন।
কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া দেশগুলোর জাহাজ থেকে নৌ চলাচল-সংক্রান্ত সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তা ও বীমাসহ বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ফি আদায় করা হবে।
এই অর্থ ইরানি রিয়াল অথবা তেহরান অনুমোদিত আন্তর্জাতিক মুদ্রায় পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছে। খসড়া আইনে হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন অন্যান্য উপকূলীয় দেশের অধিকারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
কাশকাভি ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ওমান যেভাবে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে অবস্থান নির্ধারণ করেছে, একইভাবে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিজস্ব আইন ও বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। সংসদীয় কমিশন খসড়া পরিকল্পনার একটি ধারা অনুমোদন করেছে। ফলে ‘ইরান হরমুজে ফি আরোপ করেছে’ বলার পরিবর্তে ‘ফি আরোপের পথে ইরান’ বা ‘ফি আদায়ের খসড়া ধারা অনুমোদন’ বলা অধিক নির্ভুল।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্ববাজারে সরবরাহ হওয়া বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সেখানে নৌ চলাচলের নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য ও হরমুজে নৌ চলাচল নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান এ উদ্যোগ নিল।
সূত্র: ইরনা
মন্তব্যসমূহ